আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) গ্রেটার নয়ডায় পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের একটি শাখায় গ্রাহকদের সেভিংস অ্যাকাউন্ট এবং ফিক্সড ডিপোজিটের টাকা সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। অভিযোগ, ব্যাঙ্কের এক মহিলা কর্মী সহকর্মীদের লগইন তথ্য ব্যবহার করে গ্রাহকদের অজান্তেই একাধিক লেনদেন করেছিলেন। সেই ঘটনায় এবার ১৫ জন গ্রাহককে প্রায় ৭ কোটি টাকা ফেরত দিল PNB (Punjab National Bank)।
কত টাকা ফেরত দেওয়া হল, কারা পাবেন?
গ্রাহকদের অভিযোগ খতিয়ে দেখে টাকা ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যেই ১৫ জনের অ্যাকাউন্টে প্রায় ৭ কোটি টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। তবে এখনও বেশ কয়েকজন গ্রাহকের অভিযোগ যাচাই করার কাজ চলছে। ব্যাঙ্কের তরফে জানানো হয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট লেনদেনের সত্যতা নিশ্চিত হলেই অবিলম্বে বাকি গ্রাহকদের প্রাপ্য টাকাও ফেরত দেওয়া হবে। বর্তমানে এই ঘটনায় মোট আর্থিক অনিয়মের পরিমাণ প্রায় ২৫ কোটি টাকা বলে মনে করা হচ্ছে।
গ্রাহকদের একাংশ ব্যাঙ্কে টাকা তুলতে গিয়ে দেখেন তাঁদের অ্যাকাউন্ট ফাঁকা। তখনই এই বড়সড় জালিয়াতির বিষয়টি সামনে আসে। অনেকের অভিযোগ, তাঁদের অনুমতি ছাড়াই সঞ্চয়ের টাকা অন্য অ্যাকাউন্টে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকি, বেশ কিছু ফিক্সড ডিপোজিটের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তা ভেঙে ফেলা হয়েছিল। প্রথমদিকে গ্রাহকদের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ৩৫ কোটি টাকা উধাও হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। পরে ব্যাঙ্কের নিজস্ব হিসাব ও তদন্তে আর্থিক অনিয়মের অঙ্ক দাঁড়ায় প্রায় ২৫ কোটি টাকা।
তদন্তে উঠে এসেছে, ব্যাঙ্কের এক মহিলা কর্মী ছয় সহকর্মীর CBS (Core Banking System) লগইন আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে নির্বিঘ্নে বেআইনি লেনদেন চালাতেন। প্রায় তিন বছর ধরে এই অনিয়ম চলেছিল বলে তদন্তকারীদের অনুমান। অভিযোগ, একাধিক গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা সরানোর পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে তাঁদের মোবাইলে লেনদেনের SMS অ্যালার্টও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, যাতে টাকা সরিয়ে নেওয়া হলেও গ্রাহকরা জানতে না পারেন।
আরও পড়ুন: বাজেটের মধ্যেই ৯ দিনের জাপান ট্যুর করাচ্ছে IRCTC, জানুন খরচ
ঘটনাটি সামনে আসার পরে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। এই ঘটনায় ব্যাঙ্কের একাধিক কর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। প্রথমে স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের হলেও পরবর্তী সময়ে তদন্তের দায়িত্ব নেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা CBI। বর্তমানে গ্রাহকদের অভিযোগ এবং বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে হওয়া লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারা এই আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে জড়িত, কোথায় টাকা পাঠানো হয়েছিল এবং কতজন গ্রাহক প্রকৃতপক্ষে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তা তদন্ত করে দেখছেন আধিকারিকরা।