সহেলি মিত্র, কলকাতা: এও সম্ভব! পুরুষ হয়েও বিগত ৫ বছর ধরে পাচ্ছিলেন বিধবা ভাতা (Bidhoba Bhata)! এহেন ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আসতেই চোখ কপালে উঠেছে সকলের। পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটালের (Ghatal) দাসপুর থানার গোছাতি এলাকায় এক বৃদ্ধের অ্যাকাউন্টে গত ৫ বছর ধরে বিধবা ভাতা ঢুকছিল। এরকম কীভাবে হতে পারে? কোনও কি কারচুপি হয়েছিল? তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
৫ বছর ধরে বৃদ্ধের অ্যাকাউন্টে ঢুকছে বার্ধক্য ভাতা!
কীভাবে এরকম সম্ভব? তা ভেবে কূল কিনারা পাচ্ছে না প্রশাসন। রিপোর্ট অনুযায়ী, ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্টে বিষয়টি ধরা পড়ার পর ভাতা বন্ধের আবেদন নিয়ে ব্লক প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছে পরিবার। ঘটনাকে ঘিরে প্রাক্তন শাসকদল অর্থাৎ তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিজেপি সরকার। যদিও ঘাসফুলের সাফাই, ডেটা এন্ট্রির সময় ভুল হয়ে থাকতে পারে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন গোছাতি গ্রামের ষাটোর্ধ্ব কেশব ঘোড়ই।
পরিবারের দাবি, ২০২১ সাল থেকে তাঁর অ্যাকাউন্টে নিয়মিত বিধবা ভাতার টাকা জমা পড়ছিল। সম্প্রতি ব্যাঙ্কের লেনদেন খতিয়ে দেখতে গিয়ে বিষয়টি নজরে আসে। কেশব ঘোড়ই-এর ছেলে দীপঙ্কর জানান, তাঁর বাবা লেখাপড়া জানতেন না, শুধু সই করতে পারতেন। আবেদনপত্র কে বা কীভাবে পূরণ করেছিলেন, তা পরিবারের জানা নেই।
প্রশ্ন পরিবারের
যদিও পরিবারের প্রশ্ন, একজন পুরুষের অ্যাকাউন্টে বছরের পর বছর বিধবা ভাতার টাকা জমা পড়লেও প্রশাসনের নজরে এল না কেন। ঘটনার তদন্তের দাবি উঠেছে। বিজেপির অভিযোগ, সরকারি শিবির থেকে কীভাবে এই অনুমোদন হল, তা অবিলম্বে খতিয়ে দেখা দরকার। তৃণমূলের পাল্টা দাবি, ডেটা এন্ট্রির ভুলের কারণেই এমনটা হয়ে থাকতে পারে। এদিকে ব্লক প্রশাসন জানিয়েছে, পরিবারের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি জেলাস্তরে জানানো হয়েছে। নথি খতিয়ে দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েন অবধি শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ মিলছে না সার্ভিস রেকর্ড! ডিএ পাওয়ার আশা ছাড়তে হবে গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মীদের?
ঘটনা প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা প্রশান্ত বেরা বলেন, “তৃণমূল সরকারের আমলের শিবির থেকে কীভাবে একজন পুরুষের নামে বিধবা ভাতার অনুমোদন হল? বছরের পর বছর ধরে সেই টাকা অ্যাকাউন্টে ঢুকল কীভাবে? এর তদন্ত হওয়া দরকার।” অন্যদিকে, এলাকার তৃণমূল নেতা সৌমিত্র সিংহ রায়ের বক্তব্য, “ডেটা এন্ট্রির সময় কোনও সমস্যা হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা উচিত। তবে এই ঘটনাকে নিয়ে রাজনীতি করা উচিত নয়।”