সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ ফের একবার ট্রেন টিকিটের দাম (Railway Ticket Price) বাড়তে চলেছে? এমনই এক জল্পনাকে ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বর্তমানে কয়েক কোটি মানুষ রোজ ট্রেনে করে যাতায়াত করেন। অনেকের ভরসার মাধ্যমই হল রেল। তবে এখন ভারতীয় রেল (Indian Railways) ব্যবস্থায় বড়সড় পরিবর্তনের প্রস্তুতি চলছে। কয়েক দশক পুরোনো ভাড়া কাঠামো ও ফ্লেক্সি-ফেয়ার ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর প্রস্তাব বিবেচনা করছে রেল কর্তৃপক্ষ।
ট্রেনের টিকিটের দাম বাড়বে?
নতুন প্রস্তাবে চাহিদা ও জোগানের ভিত্তিতে টিকিটের দাম নির্ধারণ এবং ভাড়ার সর্বোচ্চ সীমা বেঁধে দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও নতুন নিয়ম কবে কার্যকর হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। যদি ভাড়া বাড়ে তা বহু রেল যাত্রীর পকেটের ওপর বড়সড় চাপ ফেলবে, সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
এই ব্যবস্থার অধীনে, ব্যস্ততম সময়ে বিশেষ করে উৎসবের মরসুমে মূল ভাড়ার উপর সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ভাড়া বৃদ্ধি পাবে বলে খবর। অন্যদিকে, অফ-সিজন বা কম চাহিদার রুটের যাত্রীরা ১০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত নির্দিষ্ট ছাড় পাবেন। দাবি করা হচ্ছে যে, এই দ্বৈত ভাড়া ব্যবস্থা স্বল্প বাজেটের ভ্রমণকারীদের সাশ্রয়ী মূল্যে টিকিট সরবরাহ করবে। একইসঙ্গে, কম যাত্রী থাকা ট্রেনে আসনের বর্ধিত চাহিদা রেলওয়ের রাজস্বও বাড়াতে পারে।
দাম সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে?
এই নতুন নীতির অধীনে, উৎসব বা ব্যস্ততম সময়ে মূল ভাড়ার ওপর সর্বোচ্চ ২৫% বৃদ্ধির সীমা আরোপ করা হবে। এর ফলে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা থেকে বিরত থাকা যাবে। তবে, অফ-সিজন বা কম চাহিদার রুটে ভাড়া কমানো হবে। কেন এরকম সিদ্ধান্ত? এই বিষয়ে এক রেল কর্তা জানান, সমীক্ষায় দেখা গেছে যে উৎসবের সময় ছাড়া এবং অফ-সিজনে দেশজুড়ে প্রিমিয়াম ও এক্সপ্রেস ট্রেনগুলিতে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ আসন খালি থাকে। গড়ে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৬০০টি মেল, এক্সপ্রেস ও প্রিমিয়াম ট্রেন চলাচল করে, কিন্তু অফ-সিজনে যাত্রী সংখ্যা ধারণক্ষমতার ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশে নেমে আসে।
সমীক্ষায় উঠে এসেছে, দিল্লি-ভোপাল, মুম্বাই-আহমেদাবাদ, দিল্লি-অমৃতসর এবং বেঙ্গালুরু-চেন্নাই-এর মতো ব্যস্ত রুটগুলিতেও অফ-সিজনের কর্মদিবসগুলিতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত তৃতীয় এবং দ্বিতীয় শ্রেণীর প্রায় ৩০ শতাংশ বার্থ খালি থাকছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ট্রেনের চার্ট তৈরির ২৪–৪৮ ঘণ্টা আগে কোনও কোচের ৩০ শতাংশের বেশি আসন খালি থাকলে মূল ভাড়ায় ১০–১৫ শতাংশ ছাড় দিতে পারে রেল। অফ-সিজনে বা কম যাত্রী চলাচলকারী রুটে খালি আসন পূরণ করতে সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ ছাড়ের প্রস্তাবও রয়েছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন রেলওয়ে জোনের যাত্রীসংখ্যা ও রাজস্বের তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রেল কর্তৃপক্ষের আশা, এই ছাড়ে মধ্যবিত্ত, পড়ুয়া ও স্বল্প বাজেটের যাত্রীরা ট্রেনের প্রতি আকৃষ্ট হবেন। ফলে কম যাত্রী চলাচল করা ট্রেনেও আসন পূর্ণতার হার ৯০–১০০ শতাংশে পৌঁছতে পারে এবং রেলের রাজস্ব বাড়তে পারে। বাস বা বিমানের বদলে আরও বেশি যাত্রী ট্রেন বেছে নেবেন বলেও আশা করা হচ্ছে।