অনন্যা সরকার, ঝাড়খণ্ড: শাড়ি পরে খালি পায়ে ১,৬০০ মিটারের শারীরিক সক্ষমতার পরীক্ষা সম্পন্ন করে দেশবাসীর কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন ঝাড়খণ্ডের রামগড় জেলার এক গ্রামের বাসিন্দা কবিতা কুমারী। তিনি রাজ্যের হোম গার্ড নিয়োগ (Home Guard Recruitment) অভিযানের একজন প্রার্থী ছিলেন। এক দর্শক এই দৌড় প্রতিযোগিতার একটি ভিডিও (Viral Video) রেকর্ড করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন। এক্স-এর ওই পোস্ট অনুযায়ী, প্রচণ্ড গরম এবং সীমিত সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও কবিতা ১০ মিনিটের রেসটি মাত্র ৬ মিনিটেই শেষ করেন।
একা হাতে সন্তান ও শ্বশুরবাড়ির ভরণপোষণ
রামগড় জেলার দুলমি ব্লকের সোসো গ্রামের বিধবা মহিলা, কবিতা কুমারী একাই তাঁর দুই ছোট সন্তান এবং বয়স্ক শ্বশুর-শাশুড়ির ভরণপোষণ করেন। সংসার চালানোর জন্য একটি ইটভাটায় কাজ করেন কবিতা। তিনি জানান, দৌড়ের জন্য প্রয়োজনীয় জুতো, ট্র্যাকস্যুট বা অন্যান্য সরঞ্জাম কেনার সামর্থ্য তাঁর নেই। জানা গেছে, তাঁর হাতে থাকা সামান্য অর্থ দিয়েই তিনি হোম গার্ড নিয়োগ পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
Kavita Mahato from Jharkhand is a widow. Her husband passed away three years ago. She works at a brick kiln and single-handedly supports her two children and her in-laws. 🔥
This woman was appearing for the Home Guard recruitment trial race in Jharkhand. Kavita completed the 1,600-metre race in just 6 minutes, barefoot and wearing a torn saree.
The final selection race is still remaining. We hope Kavita clears that as well. Even if she doesn’t, the government should give this woman a job.
Salute to Kavita Mahato’s Passion. Our people have immense potential, but due to difficult circumstances, they often never get the opportunity to showcase their talent.
— The Dalit Voice (@ambedkariteIND) October 6, 2026
তিনি প্রতিদিন ভোর ৪টের সময় ঘুম থেকে উঠে দৌড়ানোর অনুশীলন করতেন এবং অধিকাংশ সময়ই তাঁর পরনে থাকতো শাড়ি। সন্তানদের জন্য আরও স্থিতিশীল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হোম গার্ডের চাকরিটা পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন কবিতা। তার জন্য দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করেন।
আরও পড়ুন: প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রমে যাওয়ার জন্য সত্যিই ৫ কোটি নিয়েছিলেন? জানালেন বিরাট কোহলি
জানা গেছে, রামগড়ে ২৮৪টি পদের জন্য হোম গার্ড নিয়োগ অভিযান পরিচালিত হবে। শারীরিক সক্ষমতা এবং লিখিত পরীক্ষা ২৪ অক্টোবর থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই পদগুলির অর্ধেক মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। আর বিধবা ও বিবাহবিচ্ছেদপ্রাপ্ত মহিলাদের জন্য অতিরিক্ত ৫% সংরক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচুর নেটনাগরিকের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। মানুষজন কবিতা কুমারীর এই অদম্য সাহস ও মানসিক দৃঢ়তা প্রশংসা করছেন। তিনি তাঁর সন্তান ও বৃদ্ধ শ্বশুর-শাশুড়ির কথা ভেবে একটি স্থায়ী জীবিকা অর্জনের জন্য নিজের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছেন। তাঁর এই বেঁচে থাকার লড়াইকে কুর্নিশ জানিয়েছেন বহু মানুষ।