জন্মের বছরেই মাধ্যমিক পাশ! হাসিরানি রথের হলফনামা নিয়ে হাইকোর্টে মামলা কংগ্রেসের

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরে উপনির্বাচন। প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের তরফ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে প্রার্থী এবং ইতিমধ্যেই মনোনয়নপত্র পেশ করেছেন তাঁরা। নন্দীগ্রাম থেকে শাসক দল বিজেপি এবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নিহত আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথকে (Hasirani Rath) প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত করেছে। তবে হলফনামায় জমা দেওয়া তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে এবার উঠছে বড়সড় প্রশ্ন। এমনকি অসংগতির অভিযোগ তুলে সরাসরি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন কংগ্রেস নেতা তথা আইনজীবী ঋজু ঘোষাল।

হাসিরানি রথের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

আসলে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানির পেশ করা নির্বাচন কমিশনের হলফনামায় তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা আর বয়সের মধ্যে রয়েছে বড়সড় অসঙ্গতি। তিনি কমিশনে যে হলফনামা জমা দিয়েছেন, সেখানে তাঁর বর্তমান বয়স আনুমানিক ৬০ বছরের বেশি। সেই হিসেবে তাঁর জন্মসাল দাঁড়াচ্ছে ১৯৬৫ কিংবা ১৯৬৬। তবে শিক্ষাগত যোগ্যতার জায়গায় লেখা রয়েছে, তিনি ১৯৬৫ সালেই চৌখালী গঙ্গা পদ্ম মিলন বিদ্যাপীঠ থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। এহেন অসঙ্গতির অভিযোগ তুলেই হাইকোর্টের দ্বারস্থ ওই প্রবীণ আইনজীবী।

রাজ্যের উচ্চ আদালতে আইনজীবী ঋজু ঘোষালের প্রশ্ন, একজন মানুষ তাঁর জন্মের বছরেই কীভাবে স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে দশম শ্রেণীতে পড়াশোনা করতে পারেন বা মাধ্যমিক উত্তীর্ণ হতে পারেন? নির্বাচন কমিশনে মিথ্যা তথ্য দিয়ে হলফনামা জমা দেওয়া একটি গুরুতর অপরাধ। এ বিষয়ে অবিলম্বে কমিশনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তিনি। যদিও মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর তিনি বলেছিলেন যে, নন্দীগ্রামের কোনও কাজ বাকি থাকবে না। তিনি তাঁর শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই করার চেষ্টা করবেন। তবে শিক্ষাগত যোগ্যতার এই অসঙ্গতি নিয়ে যে দলের অন্দরে উত্তেজনা বাড়ল তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

আরও পড়ুন: ‘খাম’ নিয়ে টানাটানি, ISF-র মামলায় কমিশনের রিপোর্ট চাইল হাইকোর্ট, প্রতীক পাবেন নওশাদ?

উল্লেখ্য, উপনির্বাচনে নন্দীগ্রামের মতো রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা আসনে মুখ্যমন্ত্রীর প্রয়াত আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথকে প্রার্থী করা হবে, এই জল্পনা চলছিল দীর্ঘদিন ধরেই। রাজনীতির ময়দানে তিনি নতুন মুখ নন। ১৯৯৮ সাল থেকেই তিনি সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। এমনকি দু’বার পঞ্চায়েত সদস্য এবং তিনবার পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য হিসেবে তিনি দায়িত্বও সামলেছেন। তবে তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতার এই অসঙ্গতি নিয়ে হাইকোর্ট কী পদক্ষেপ নেয় সেটাই এখন দেখার।

Leave a Comment