আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: গোদের ওপর বিষফোঁড়া! শালবনি জমি দুর্নীতি (Salboni land scam) মামলায় ইতিমধ্যেই জেলবন্দি অভিষেক ব্যানার্জির (Abhishek Banerjee) আপ্তসহায়ক সুমিত রায় (Sumit Roy)। এরই মধ্যে নতুন করে আইনি জটিলতায় পড়লেন তিনি। এবার ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশ মাটি চুরির একটি মামলায় তাঁকে শোন অ্যারেস্ট দেখিয়েছে। বুধবার শালবনি থেকে তাঁকে আলিপুর আদালতে নিয়ে আসা হয়। প্রায় ৪০০ কোটি টাকার মাটি চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন এই মামলা সুমিতের আইনি সমস্যাকে আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
দুই দুর্নীতিতে নাজেহাল সুমিত
এর আগে শালবনি এলাকায় সরকারি জমির জাল নথি তৈরি করে বিক্রির অভিযোগে সুমিতের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। এই মামলায় প্রথমে গ্রেফতার করা হয় প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরাকে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের সূত্র ধরেই তদন্তকারীদের নজরে আসেন অভিষেক ব্যানার্জির আপ্তসহায়ক। পরে সিআইডি তাঁকে গ্রেফতার করে। এই মামলায় তদন্তকারী সংস্থার চার্জশিটে জাল নথি, সরকারি জমির বেআইনি লেনদেন এবং আর্থিক লেনদেনের একাধিক অভিযোগের উল্লেখ রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে সুমিতকে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছিল। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি সিআইডির কাছে ১১ বার হাজিরা দিয়েছিলেন এবং মোট ৮৮ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়েছিলেন।
পুরনো শালবনি জমি দুর্নীতি মামলার তদন্ত চলার মধ্যেই এবার নতুন করে মাটি চুরির মামলা সামনে এসেছে। ডায়মন্ড হারবারের কালীতলা আশুতি থানায় দায়ের হওয়া এই মামলায় প্রায় ৪০০ কোটি টাকার মাটি চুরির অভিযোগ উঠেছে। শালবনির সরকারি জমি সংক্রান্ত মামলার সঙ্গে এবার জুড়ে গিয়েছে মাটি চুরির মামলাও। দুটি পৃথক অভিযোগের ভিত্তিতে দুই দিকেই তদন্ত চলছে। শালবনি মামলায় জেলবন্দি থাকায় নতুন মামলায় আইন মেনেই সুমিতকে শোন অ্যারেস্ট দেখিয়েছে পুলিশ।
আরও পড়ুন: মুখোমুখি সংঘর্ষ দুটি হাইস্পিড ট্রেনের, ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মৃত্যু অন্তত ৫০ জনের
বুধবার আলিপুর আদালতে তাঁকে পেশ করে হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়। সুমিতের তরফেও নতুন মামলায় জামিনের আবেদন করা হয়েছে। অভিষেক ব্যানার্জির ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে ঘিরে পরপর এই আইনি ঘটনায় রাজনৈতিক মহলেও চর্চা শুরু হয়েছে। তবে সুমিতকে নিয়ে অভিষেক ব্যানার্জির কোনও মন্তব্য এখনও অব্দি সামনে আসেনি।
আরও পড়ুন: দুর্গাপুজোর পাস বিক্রির অভিযোগ, অবশেষে গ্রেফতার রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন
এদিকে, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের প্রেক্ষাপটে তৃণমূলের নেতা ও ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে একের পর এক তদন্ত এবং গ্রেফতারির ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরও ক্রমশ বেড়েই চলেছে। শুধু সুমিত রায় নন, মাটি চুরি ও জমি সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগে তৃণমূলের আরও কয়েকজন নেতা ও কর্মীর নাম উঠে এসেছে। শালবনি জমি দুর্নীতি মামলায় সুমিত রায়ের গ্রেফতারির পর সিআইডি এই মামলায় অমিত ঘোষ, নিত্যানন্দ রায় এবং লক্ষ্মীকান্ত ভুঁইয়াকেও গ্রেফতার করে। অন্যদিকে, খড়দহের তৃণমূল নেতা প্রসেনজিৎ সাহার বিরুদ্ধেও জলাশয় ভরাট ও মাটি চুরির অভিযোগ উঠেছে।