জাতীয় সড়কে টোটো রুখতে কড়া হাওড়া জেলা প্রশাসন, চাকার হাওয়া খুলে দিচ্ছে পুলিশ

অনন্যা সরকার, হাওড়া: সারা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে অপরিকল্পিতভাবে বেড়ে চলা টোটোর (Toto) দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষ, পথচারী ও অন্যান্য যানবাহনে চালকরা চরম ভোগান্তির শিকার হন। এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েই এবার জাতীয় সড়ক, রাজ্য সড়ক এবং গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিতে ই-রিকশা ও টোটো চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে রাজ্য পরিবহণ দপ্তর (Transport Department)। এই নির্দেশ অমান্য করলে কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশিকা আসার পর এবার হাওড়ায় শুরু হয়েছে পুলিশের কড়াকড়ি। রবিবার থেকে ১৬ নম্বর জাতীয় সড়ক সংলগ্ন কোনা মোড়, সলপ, রানিহাটি, অঙ্কুরহাটির মতো এলাকায় তৎপরতা বাড়িয়েছে ট্রাফিক পুলিশ। জাতীয় সড়ক এবং সার্ভিস রোড থেকে অস্থায়ী টোটো স্ট্যান্ড রাতারাতি হাওয়া।

টোটো নিয়ন্ত্রণে হাওড়ায় কড়াকড়ি 

১৬ নম্বর জাতীয় সড়কের কোনা, সলপ ও পাকুড়িয়া ব্রিজের ওপরে সবচেয়ে বেশি টোটোর দৌরাত্ম্য দেখা যেত। তার সাথে তো ছিলই পণ্যবাহী তিনচাকার ভ্যান। শহরের সার্ভিস রোড ও অলিগলি দিয়ে বিনা বাধায় টোটো নিয়ে জাতীয় সড়কে উঠে পড়তেন চালকরা। হাইওয়ে পার করা থেকে শুরু করে পাকুড়িয়া ব্রিজের ওপর উঠে যাত্রী তোলা বা নামানো চলতো অবাধে। যাত্রী ছাড়াও ভারী মালপত্র নিয়ে অনেক টোটো ও প্যাডেল ভ্যান ব্রিজে উঠতো। এর ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছিলেন অন্যান্য যানবাহনের চালক ও পথচারীরা। 

আরও পড়ুন: ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে পৌঁছে গেল TBM দিব্যা, বড় মাইলফলক কলকাতা মেট্রোর

স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করে, অবাধ টোটো চলাচলের জন্য প্রায়ই ছোটো-বড়ো দুর্ঘটনা ঘটে যাচ্ছিলো। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার কড়া হয়েছে জেলা পুলিশ। সলপ ও কোনায় জাতীয় সড়কে চলাচল নিষিদ্ধ করার পরও যে টোটো ও মালবাহী ভ্যানগুলিকে দেখা যাচ্ছিল, সেগুলিকে সরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি  কয়েকটি গাড়ির চাকার হাওয়াও খুলে দেওয়া হয়। সার্ভিস রোডগুলিতে বিনা অনুমতিতে টোটো দাঁড় করিয়ে রাখা হতো। পাকুড়িয়া ব্রিজের ওপরে গজিয়ে ওঠা এরকম অস্থায়ী টোটো স্ট্যান্ড সরিয়ে দিয়েছে পুলিশ। 

পুলিশের এই পদক্ষেপে সভাপতি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন ট্রাক চালক ও দূরপাল্লার বাসের চালকেরা। তাঁরা জানান, হাইওয়েতে যানবাহনের গতি বেশি থাকে তাই আচমকা অলিগলি থেকে টোটো জাতীয় সড়কে উঠে আসলে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। সরকারি নির্দেশ কঠোরভাবে কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন ওই চালকেরা। 

আরও পড়ুন: “জিহাদীদের সমর্থন করছেন” চুঁচুড়ার বিধায়ক সুবীর নাগের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক বিজেপি কর্মী

অন্যদিকে, স্থানীয় টোটোচালকরা বলছেন, বহু টোটো মালিকের কাছেই ৬ থেকে ৭টি করে টোটো রয়েছে, তাই টোটোর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। তাঁদের দাবি প্রতিটি মালিকের কাছে একটি করে টোটো রাখার নিয়ম করা হোক, এতে টোটোর সংখ্যা কমবে। তবে হাইওয়েতে না যাওয়ার সরকারি নির্দেশ তারা মেনে নিয়েছেন। হাওড়া জেলার পরিবহন দপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, টোটো ব্যবহৃত হবে ‘লাস্ট মাইল কানেক্টিভিটি’-র মাধ্যম হিসেবে। যারা নিয়মভঙ্গ করে হাইওয়েতে উঠবে তাদের বিরুদ্ধে ১৯৮৮ সালের মোটর ভেহিকেলস অ্যাক্ট অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  

Leave a Comment