বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: বেআইনি নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়ে টাকার রফা করে ফের সেই কাজ চালু করার অনুমতি দিত বিধাননগর পুরসভা! আর সবটাই হতো তৃণমূল (Trinamool Congress) নেতা দেবরাজ চক্রবর্তীর (Debraj Chakraborty) তত্ত্বাবধানে! আপাতত এমন খবরই উঠে আসছে কয়েকটি সূত্র মারফত। জানা গিয়েছে, দেবরাজকে গ্রেফতার করার পর তাঁকে ক্রমাগত জেরা করে চলেছেন বিশেষ তদন্তকারী দল বা SIT এর আধিকারিকরা। আর সেই জেরাতেই একেবারে ভেঙে পড়েছেন দেবরাজ! তিনি নাকি ঠিকমতো খাওয়া-দওয়াও করছেন না।
প্রকাশ্যে একাধিক বিস্ফোরক তথ্য
রাজ্যের বিশেষ তদন্তকারী দল দেবরাজ চক্রবর্তীকে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় তৃণমূল নেতাকে একগুচ্ছ অস্বস্তিকর প্রশ্ন করেন। তদন্তে উঠে আসা বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তকারী আধিকারিকরা দেবরাজের কাছে জানতে চান, অবৈধ নির্মাণ বন্ধের নির্দেশ দেওয়ার পরেও কীভাবে আবার সেই নির্মাণ কাজ চালু করার অনুমতি দেওয়া যায়? কোন জাদুবলে অবৈধ নির্মাণ ফের চালু করতে দেওয়া হচ্ছিল?
তদন্তকারীদের তরফে জানানো হয়েছে প্রথমে দেবরাজ চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠরা শহরের কোথায় অবৈধ বা বেআইনি নির্মাণ হচ্ছে তা খুঁজে বের করতেন। পাওয়া গেলে সেই তথ্য যেত দেবরাজের কাছে। পরে বিধাননগর পুরো নিগমের লেটারহেড ব্যবহার করে চিঠি পাঠিয়ে ওই অবৈধ নির্মাণ বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হতো। আর এমন নির্দেশের পরই নির্মাণ সংস্থার আধিকারিকরা নাকি টাকার রফা করতে ছুটতেন। পরবর্তীতে অর্থের বিনিময়ে রফাদফা হয়ে গেলে আবার অবৈধ নির্মাণ তৈরির অনুমতি পেয়ে যেত সংস্থা!
অবশ্যই পড়ুন: সাফল্যের পরেও চিন্তায় আর্জেন্টিনার কোচ, মিশর ম্যাচের আগেই বদলে যাবে মেসির দল!
সিটের তরফে জানানো হয়েছে, কীভাবে অবৈধ নির্মাণে অনুমতি দেওয়া হতো এমন বেশ কিছু প্রশ্ন করা হয় দেবরাজকে। একের পর এক প্রশ্ন শুনে একটা সময় ঘাবড়ে যান তিনি! এদিকে তদন্তে উঠে এসেছে পৌরসভার এক ইঞ্জিনিয়ারের নাম। শোনা যাচ্ছে, টাকার বিনিময়ে বেআইনি নির্মাণের অনুমতি দেওয়ার ঘটনায় যুক্ত রয়েছেন তিনিও! ওই ব্যক্তির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের লেনদেন খতিয়ে দেখতে চলেছেন তদন্তকারীরা। তদন্তকারীদের একটি সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘক্ষণ জেরার কারণে একপ্রকার ভেঙে পড়েছেন দেবরাজ। তিনি নাকি খাওয়া দাওয়াও প্রায় বন্ধ করে দিয়েছেন! আশা করা যাচ্ছে, খুব শীঘ্রই দেবরাজকে জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে এইসব কুকর্মের নেপথ্যে বড় মাথাকে সামনে আনা যাবে।