জেলের ভিতরই কারারক্ষীকে গুলি কয়েদির, ভাইরাল ভিডিও দেখে শিউরে উঠবেন

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: জেলের মধ্যেই আসামির গুলিতে আহত হলেন কারারক্ষী। ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের (Madhya Pradesh) রাইসেন জেলা কারাগারের ভিতরে। এমনকি ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে, আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ওই কয়েদি কারারক্ষীর পিঠে গুলি করায় তিনি আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও বর্তমানে তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক। তবে এই ঘটনায় জেলের সুপারেনটেনডেন্টকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলেই খবর।

আসামির হাতে গুলিতে আহত কারারক্ষী

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এক হত্যা মামলায় প্রায় এক বছর ধরে ৪০ বছর বয়সী ওই আসামি জেলবন্দি। তবে উচ্চ নিরাপত্তাসম্পন্ন কারাগারের ভেতরেই একটি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে ওই কারারক্ষীকে গুলি করে আহত করেছেন তিনি। তবে অস্ত্রটি কীভাবে তাঁর হাতে এল তা এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট নয়। প্রথমে ওই কারারক্ষী দ্বিগবিজয় সিং তোমরকে জেলা হাসপাতাল এবং পরে এইমস ভোপালে রেফার করা হয়। গুলিটি তাঁর পিঠের উপরের অংশে ঢুকে ফুসফুসের নিচের অংশে আটকে গিয়েছে বলেই জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। বুধবার সন্ধ্যায় তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল থাকলেও পরে আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়।

গতকাল সকাল ন’টার দিকে এই গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির নাম নিলেশ ঠাকুর। জেলের ভেতরেই তিনি কারারক্ষী তোমরকে লক্ষ্য করে গুলি চালান বলে অভিযোগ। তবে তিনি কীভাবে ওই অস্ত্রটি পেলেন তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় ঊর্ধ্বতন কারা কর্মকর্তারা রাইসেন জেলের সুপারিনটেনডেন্টকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেন। পাশাপাশি ইতিমধ্যেই এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। অভিযুক্তকে আজ আদালতে তোলার কথা।

আরও পড়ুন: কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষ! ঋতব্রত নাকি কালীঘাট, কোন শিবিরে গেল তৃণমূলের প্রতীক?

উল্লেখ্য, বরেলির নিকটবর্তী দিমাদা গ্রামের বাসিন্দা নিলেশ ঠাকুরকে গত বছর একটি হত্যা মামলায় গ্রেফতার করা হয় এবং তিনি প্রায় এক বছর ধরেই রাইসেনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন। পাশাপাশি পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে আগেও একাধিক ফৌজদারি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। এ বিষয়ে রাইসেনের এসপি আশুতোষ গুপ্ত মিডিয়াকে জানান, “অভিযুক্তের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টার মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আইনত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যেহেতু তিনি বর্তমানে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন, তাই আদালতের অনুমতি নিয়েই তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হবে। পাশাপাশি অস্ত্রের উৎস খুঁজে বের করা আমাদের তদন্তের অংশ।”

Leave a Comment