বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: সময় বদলায়। বদলায় পরিস্থিতিও। একটা সময় বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে ঋণ দিত যেই সৌদি আরব (Saudi Arabia), তারাই এখন আর্থিক সাহায্যের জন্য হাত পাতছে! তেলের বিপুল ভান্ডার সমৃদ্ধ এই ধনী দেশটির কাছ থেকে প্রায়শই ঋণ (Debt) নেয় পাকিস্তান (Pakistan)। তাদেরই কিনা এবার আর্থিক সাহায্যের জন্য অন্যের দুয়ারে দুয়ারে যেতে হচ্ছে! ব্লুমবার্গের রিপোর্ট অনুযায়ী, এই মুহূর্তে সৌদি আরবের প্রায় 8 বিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন। ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় 76 ট্রিলিয়ন রূপি।
হঠাৎ কেন আর্থিক সাহায্যের প্রয়োজন হল সৌদি আরবের?
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল সরবরাহকারী দেশ সৌদি আরব। সেই সূত্রেই নিজেদের শক্তিশালী আর্থিক অবস্থান বজায় রেখেছে রিয়াদ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে সংঘাত এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতির কারণেই অর্থনৈতিক দিক থেকে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সৌদি আরব। একটা সময় যে দেশের কাছ থেকে ঋণ নেওয়ার জন্য লাইন দিতো বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলি, সেই সৌদি আরবকে এবার 8 বিলিয়ন ডলারের জন্য কার্যত হাত পাততে হচ্ছে।
সৌদি আরবের ডেট ম্যানেজমেন্ট সেন্টার প্রায় 8 বিলিয়ন ডলার ঋণের জন্য বিভিন্ন ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করছে। জানা যাচ্ছে, মূলত সৌদি আরবের যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমানের ভিশন 2030 এর জন্যই এই বিপুল পরিমাণ ঋণ নিতে চলেছে দেশটি। আসলে 2016 সালে চালু হওয়া এই বিশেষ পরিকল্পনার অধীনে তেলের উপর নির্ভরতা কমিয়ে পর্যটন থেকে শুরু করে বিনোদন, উৎপাদন, সরবরাহ এবং প্রযুক্তির মতো খাতে অর্থনীতিকে গতিশীল করতে চাইছে সৌদি আরবের সরকার।
আরও পড়ুন: শেখ হাসিনার দলের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ? ভারতের সিদ্ধান্তে আনন্দে আত্মহারা বাংলাদেশ!
সৌদি আরবের বর্তমান যুবরাজ একেবারেই চান না, নিজের দেশের তেলের বিপুল ভান্ডার ফুরিয়ে গেলে তাঁদের চরম অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়তে হয়। মূলত সে কারণেই শুধুমাত্র তেলের উপর নির্ভরতা কমিয়ে অন্যান্য খাতেও বিনিয়োগ করে সে ক্ষেত্রেও আর্তনির্ভরশীল হয়ে উঠতে চাইছে এই দেশ। সৌদি আরবের যুবরাজের কথায়, “বিশ্বের কোনও দেশে সৌদি আরবকে ভিশন 2030 পূরণের ক্ষেত্রে আটকাতে পারবে না।”