টানা বৃষ্টিতে ফের ভাসল দুধিয়া সেতু, মিরিকে বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ফের বিপর্যয় উত্তরবঙ্গে (North Bengal), রাতভর টানা বৃষ্টিতে (North Bengal Heavy Rain) ফুঁসছে বালাসন নদী। আর তার ফলে কয়েকমাসের ব্যবধানে ফের ভাসল দুধিয়ার হিউমপাইপের সেতু (Dudhia Bridge Collapsed)। নদীর জলস্তর ক্রমাগত বাড়তে থাকায় মিরিক ব্লকের দুধিয়ায় নির্মিত অস্থায়ী হিউমপাইপের সেতুরএই ভয়ংকর পরিণতি হয়েছে। জানা গিয়েছে, প্রায় ১২টি হিউমপাইপ নদীর স্রোতে তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বাকি পাইপগুলিও নদীর তলদেশে বসে গিয়েছে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন মিরিকে। প্রবল আতঙ্কে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকরা।

ফের ভাঙল দুধিয়ার অস্থায়ী সেতু

প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, গত কয়েকদিন ধরে সকাল থেকে পাহাড়ি এলাকায় লাগাতার বৃষ্টির জেরে বালাসান নদীতে জল বাড়তে শুরু করেছে। যার মধ্যে অন্যতম তিস্তা ও বালাসন নদী। এর ফলে জলের স্রোত ক্রমশ বাড়ার ফলে নদীর জলের তোড়ে দুধিয়ার অস্থায়ী হিউম পাইপ সেতুটির উপর দিয়ে জল প্রবাহিত হতে থাকে এবং সেতুটির কাঠামো ভেসে যায়। সেতু ভেঙে যাওয়ার ফলে শিলিগুড়ি থেকে মিরিকগামী সরাসরি যোগাযোগের পথ বড়সড় বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। যদিও, পরিস্থিতি সামাল দিতে কার্যকর ভূমিকা নিয়েছে বেইলি ব্রিজটি। তবে বেইলি ব্রিজটির সর্বোচ্চ বহন ক্ষমতা সীমিত হওয়ায় বাস ও ট্রাক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা বজায় রেখেছে প্রশাসন।

ভরসা এখন বেইলি ব্রিজ

চলতি বছর গত জুলাই মাসেও টানা বৃষ্টি ও মহানন্দার ফুলবাড়ি ব্যারেজের গেট খুলে দেওয়ায় জলস্তর বাড়ে বালাসনে। আশঙ্কা সত্যি করে ভেসে যায় অস্থায়ী দুধিয়া সেতু। শিলিগুড়ি থেকে মিরিক, যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এরপরই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয়েছিল সেতু মেরামতির কাজ। অন্যদিকে দ্রুত যোগাযোগ স্বাভাবিক করতে সেনারা তৈরি করে বেইলি ব্রিজ। দেড় মাসের মাথায় ফের একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল। আসলে পাহাড়ে পণ্য পরিবহনের প্রধান ভরসা ছিল হিউমপাইপের এই সেতু। কিন্তু চলতি বর্ষায় সেই সেতু বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায়, নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে স্থানীয় এবং পর্যটকদের মধ্যে।

আরও পড়ুন: সন্দেশখালিতে জমি নিয়ে তুমুল বিতর্ক, হাতাহাতি! এবার মুখ খুললেন বিধায়ক রেখা পাত্র

আজও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা উত্তরবঙ্গে

হাওয়া অফিস সূত্রে জানা গিয়েছে, এইমুহুর্তে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশ সংলগ্ন এলাকা থেকে নিম্নচাপ সরে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। অন্যদিকে হরিয়ানা থেকে একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখা উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপ পর্যন্ত বিস্তৃত যা ঝাড়খন্ড এবং পশ্চিমবঙ্গের উপর দিয়ে গিয়েছে। আর তার প্রভাবে শুরু হয়েছে বৃষ্টি। আজও, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলায় ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

Leave a Comment