প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ট্রাফিক চালান নিয়ে এবার আরও কড়াকড়ি, যদি কোনও ব্যক্তির ট্র্যাফিক চালান বকেয়া থাকে তাহলে সেটি বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে যুক্ত করা হবে..এমনই পরামর্শ সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court)। ট্রাফিক নিয়ম না মানায় পুলিশের তরফে ই-চালান কাটা হয়, কিন্তু তা সত্ত্বেও অনেকেই জরিমানা মেটাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠে আসছে কম বেশি। তাই এবার সেই নিয়ে কড়াকড়ি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিল শীর্ষ আদালত (Supreme Court E-Challan)।
ই-চালান বকেয়া নিয়ে কড়াকড়ি আদালত
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি সড়ক নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি জনস্বার্থ মামলা চলছিল সুপ্রিম কোর্টে। সেই মামলার শুনানি হয় বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কে ভি বিশ্বনাথনের ডিভিশন বেঞ্চে। আদালত জানায়, শুধু হাজার হাজার ই-চালান কেটে নিলেই হবে না, জরিমানার টাকা আদেও বাস্তবে আদায় হচ্ছে কি না, সেটাই দেখতে হবে। এরপরই আদালতকে জানানো হয়, বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে মিলিয়ে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা ই-চালান বাবদ বকেয়া রয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা আদায় করা সম্ভব হলেও এখনও অনেক বাকি। আর তাই শুনেই এবার বিরাট পরামর্শ দিল আদালত।
বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে যুক্ত করা হবে বকেয়া
বিচারপতি পারদিওয়ালা বলেন, বকেয়া ট্র্যাফিক চালান আদায়ের জন্য সেক্ষেত্রে কাজে লাগানো যেতে পারে বিদ্যুতের বিল। তাঁর কথায়, “মানুষ যদি ট্রাফিক চালান না মেটান, তবে তা তাঁদের বিদ্যুৎ বিলের সাথে যোগ করে দিন। তখন এমনিতেই তাঁদের বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হবে, নইলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে। বকেয়া আদায়ের জন্য এমনই কিছু ভাবতে হবে।” তবে বকেয়া ট্রাফিক জরিমানা আদায়ের ক্ষেত্রে যে বিদ্যুৎ বিলকেই কাজে লাগতে হবে এমন কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও পর্যন্ত নেওয়া হয়নি।
আরও পড়ুন: আর ওয়েস্ট বেঙ্গল নয়, এবার থেকে হবে ‘পশ্চিমবঙ্গ’! নাম পরিবর্তন নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত বিজেপির
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ ই চালানের বকেয়া না মেটানো পর্যন্ত গাড়ির রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট রিনিউ, ডুপ্লিকেট RC দেওয়া এবং গাড়ির মালিকানা বদল আটকে দেওয়ার কথাও বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ ই-চালান ব্যবস্থা কার্যকর করতে হলে বাস্তব পরিস্থিতি মাথায় রেখে এমন পদ্ধতি খুঁজতে হবে, যাতে জরিমানা শুধু কাগজে-কলমে আটকে না থাকে। তবে বাস্তবায়নের এখনই কোনও নির্দেশ দেয়নি আদালত।