ডিএ আদায়ের দাবিতে এবার হাইকোর্টে গ্রান্ট ইন এড কর্মীরা, মামলা প্রধান শিক্ষক সমিতির

সহেলি মিত্র, কলকাতা: বকেয়া ডিএ (Dearness Allowance Arrears) ইস্যুতে ফের একবার আসরে নামলেন গ্রান্ট ইন এইড (Grant in Aid) কর্মীরা। নতুন করে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করলেন কর্মীরা। শিক্ষকমণ্ডলী, শিক্ষাকর্মী এবং অন্যান্য কর্মচারীরা প্রাপ্য বকেয়াগুলি পেতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। কবে টাকা মিলবে? সেই অপেক্ষায় দিন গুনছেন সকলে। আদৌ মিলবে কিনা, এখন তা নিয়েও ধোঁয়াশা তৈরী হয়েছে। বকেয়া ডিএ আদায়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হল পশ্চিমবঙ্গ প্রধান শিক্ষক সমিতি।

বকেয়া ডিএ নিয়ে ফের আদালতে মামলা দায়ের

সংগঠনের অভিযোগ, ২০০৮–২০১৯ সালের বকেয়া ডিএ থেকে শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী ও কর্মচারীরা বঞ্চিত হচ্ছেন। তাদের দাবি, ২০০৯ সালে রাজ্য সরকারের পে কমিশন এআইসিপিআই অনুযায়ী ডিএ দেওয়ার কথা বললেও বাস্তবে সর্বভারতীয় হারের তুলনায় অনেক কম ডিএ দেওয়া হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের ডিএ মামলায় সুপ্রিম কোর্ট এআইসিপিআই অনুযায়ী বকেয়া মেটানোর নির্দেশ দেওয়ার পর ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বে মনিটরিং কমিটিও গঠিত হয়।

গুরুতর অভিযোগ কর্মীদের

অভিযোগ, সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ-র একটি অংশ মেটানো হলেও ‘গ্রান্ট ইন এড’ কর্মীদের বকেয়া মেটাতে এখনও কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। মামলাকারীদের দাবি, সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য সরকারের পেশ করা হিসেবেই সরকারি ও ‘গ্রান্ট ইন এড’—দুই ক্ষেত্রের কর্মীদের ধরেই প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। এই বিষয়ে ডব্লিউবিএইচএ-র সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণাংশু মিশ্রের দাবি, রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা বকেয়া ডিএ-র কিছুটা পেলেও গ্রান্ট ইন এড-এর শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীরা এখনও বঞ্চিত। তাই হাইকোর্টে মামলা করা হয়েছে। সরকারি কর্মীদের মতো গ্রান্ট ইন এড কর্মীদের বকেয়া মেটানোর পদ্ধতি ও সময়সীমাও মালহোত্রা কমিটির মাধ্যমে নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে সংগঠন।

আরও পড়ুনঃ মন্ত্রী হয়েও নেই এতটুকু অহংকার, নিজেই চাষের কাজে নেমে পড়লেন গৌরীশঙ্কর ঘোষ

রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া টাকা আদায় একটি জটিল এবং সময়সাপেক্ষ ব্যাপার হলেও, আইনি লড়াই ও প্রশাসনিক গঠনমূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধানের সম্ভাবনা বাড়ছে বলে মনে করা হচ্ছে। ভবিষ্যতের সুপ্রিম কোর্টের রায় এবং সরকারের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এই বিষয়ে চূড়ান্ত নির্ধারণ করবে।

Leave a Comment