আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: ড্রাইভিং লাইসেন্স (Driving Licence) পাওয়ার প্রক্রিয়ায় এবার একাধিক পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার (Central Government)। এই নতুন ফরম্যাটে লাইসেন্সের জন্য নির্ধারিত অনলাইন পরীক্ষায় পাশ করতে হলে আগের তুলনায় বেশি নম্বর পাওয়া বাধ্যতামূলক হতে পারে। পাশাপাশি, লাইসেন্সে নাম ঠিকানা সংশোধনের খরচ, পরিচয় ও বয়সের প্রমাণপত্র এবং লাইসেন্সের ধরন নিয়েও একাধিক নতুন প্রস্তাব সামনে এসেছে। কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রক (Ministry of Road Transport and Highways)-এর প্রকাশিত খসড়ার সংশোধনীতে এই পরিবর্তনগুলির কথা বলা হয়েছে। তবে প্রস্তাবগুলি এখনও চূড়ান্ত নয়।
অনলাইন পরীক্ষায় পাশ করতে লাগবে ৭৫% নম্বর
বর্তমানে নিরাপদে গাড়ি চালানো সংক্রান্ত অনলাইন টিউটোরিয়ালের পরীক্ষায় পাশের জন্য ন্যূনতম ৬০ শতাংশ নম্বর প্রয়োজন হয়। প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, সেই সীমা বাড়িয়ে ৭৫ শতাংশ করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি টিউটোরিয়ালটি অন্তত ৩০ মিনিটের হতে হবে, এমন প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এটি সম্পূর্ণ করার জন্য সাত দিনের পরিবর্তে ১৫ দিন সময় দেওয়ার কথাও খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে শিক্ষানবিশ চালকদের লাইসেন্স পেতে গেলে নিরাপদে গাড়ি চালানোর বিষয়ে আরও বেশি জ্ঞান অর্জন করতে হবে এবং পরীক্ষায়ও তুলনামূলক ভালো ফলাফল করতে হবে।
ড্রাইভিং লাইসেন্সে ব্যক্তিগত তথ্য সংশোধনের প্রক্রিয়াতেও বদল আনার কথা বলা হয়েছে। লাইসেন্সে নাম, ঠিকানা-সহ বিভিন্ন তথ্য পরিবর্তনের জন্য অনলাইনে আবেদন করা যাবে এবং এই ধরনের সংশোধনের জন্য কোনওরকম ফি নেওয়া হবে না এমনটাই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আধার যাচাইকরণের মাধ্যমে অনলাইনে নেওয়া নির্দিষ্ট কিছু পরিষেবাতেও ফি মকুবের প্রস্তাব রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আবেদন পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে তা মঞ্জুর বা খারিজ করতে হবে। আবেদন বাতিল হলে তার কারণও জানাতে হবে। অন্যদিকে, ঠিকানা পরিবর্তনের আবেদন ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি না হলে সেটি অনুমোদিত বলে গণ্য করার প্রস্তাবও খসড়ায় রয়েছে।
নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ভারতীয় ও বিদেশি নাগরিকদের জন্য আলাদা রঙের ড্রাইভিং লাইসেন্স চালু হতে পারে। লাইসেন্সে নাগরিকত্বের উল্লেখ রাখার পাশাপাশি চালকের ব্লাড গ্রুপ, মোবাইল নম্বর এবং জরুরি যোগাযোগের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। লাইসেন্সে থাকা তথ্য পড়ার জন্য বর্তমান মেশিন-রিডেবল ব্যবস্থার পরিবর্তে কিউআর কোড-ভিত্তিক ব্যবস্থা চালুর কথাও খসড়ায় রয়েছে। নতুন করে ইস্যু করা এবং নবীকরণ করা লাইসেন্সগুলি পিভিসি কার্ডে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
পরিচয় ও বয়সের প্রমাণপত্রেও কড়াকড়ির
লাইসেন্সের আবেদনে পরিচয়, বয়স ও ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে কোন কোন নথি গ্রহণ করা হবে, সেই বিষয়টিও নতুন তালিকার প্রস্তাবে রয়েছে। আধার কার্ড, পাসপোর্ট, ভোটার পরিচয়পত্র, ই-রেশন কার্ড, জন্মের শংসাপত্র এবং নির্দিষ্ট সরকারি বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নথি বিভিন্ন ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য হতে পারে। অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট খসড়ায় বয়স ও ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে বর্তমান ব্যবস্থায় যে নথিগুলি গ্রহণ করা হয় তাতেও পরিবর্তন আনার কথা বলা হয়েছে। বিদেশি আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ভারতে বৈধভাবে থাকার প্রমাণ দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
আরও পড়ুন: চালু হল শিলিগুড়ি থেকে কাঠমান্ডুর বাস পরিষেবা, জানুন রুট ও ভাড়া
কবে থেকে কার্যকর হবে নতুন নিয়ম?
কেন্দ্রীয় মন্ত্রক এই প্রস্তাবগুলি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সংস্থাগুলির কাছ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে আপত্তি ও পরামর্শ চেয়েছে। সেই মতামত বিবেচনার পর চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে তবেই সংশোধনীগুলি কার্যকর হবে।