অনন্যা সরকার, প্রয়াগরাজ: দীর্ঘ ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলছে বিতর্ক। তাজমহল (Taj Mahal) আসলে ভগবান শিবের উদ্দেশ্যে নিবেদিত হিন্দু মন্দির, ‘তেজো মহালয়’ (Tejo Mahalaya) ছিল বলে দাবি করে দেওয়ানি মামলা দায়ের করা হয় দায়ের করা হয় আদালতে। এই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এখন এই সমাধিসৌধটি পরিদর্শন ও তার ছবি তোলার জন্য একজন ‘অ্যাডভোকেট কমিশনার’ (Advocate Commissioner) নিয়োগের আবেদন জানিয়ে একটি পিটিশন দাখিল করা হয়েছে এলাহাবাদ হাইকোর্টে। সোমবার বিচারপতি রোহিত রঞ্জন আগরওয়াল এবিষয়ে কেন্দ্র সরকার ও আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (ASI)-এর কাছে উত্তর চেয়ে পাঠিয়েছেন এবং তাদের পাল্টা হলফনামা (Affidavits) দাখিল করারও নির্দেশ দিয়েছেন।
তাজ মহল নিয়ে কী দাবি করা হচ্ছে?
দেবতা শ্রী অগ্রেশ্বর মহাদেব নগ্নথেশ্বর বিরাজমান তেজো মহালয় মন্দির প্রাসাদের পক্ষ থেকে তাঁর নেক্সট ফ্রেন্ড (Next Friend) হরি শঙ্কর জৈন এবং অন্যান্যদের দায়ের করা এই আবেদনে, তাজমহল পরিদর্শনের জন্য একজন অ্যাডভোকেট কমিশনার নিয়োগ করার ক্ষেত্রে ট্রায়াল কোর্ট এবং রিভিশনাল কোর্টের আপত্তিকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।
জানিয়ে রাখি, এই বিবাদের সূত্রপাত হয় ২০১৫ সালে আগ্রায় দায়ের করা একটি দেওয়ানি মামলা থেকে। সেই মামলায় হরি শঙ্কর জৈন এবং অন্যান্য ভক্তরা দাবি করেন যে, মুঘল সম্রাট শাহজাহানের শাসনামলে মমতাজ মহলের সমাধিসৌধে পরিনত হওয়ার আগে তাজমহল আসলে ছিল ভগবান শিবের প্রতি উৎসর্গীকৃত একটি হিন্দু মন্দির, তেজো মহালয়। এই মর্মে একটি ঘোষণার পাশাপাশি, তারা হিন্দুদের এই স্মৃতিসৌধের ভেতরে দর্শন, পূজা এবং আরতি করার অনুমতি চেয়েছেন।
আবেদনকারীরা বলেন, তাজমহলের স্থাপত্য ও কাঠামোগত বৈশিষ্ট্যগুলো নথিভুক্ত করার জন্য এটিকে পরিদর্শন করা প্রয়োজন। তাঁদের যুক্তি, শুধুমাত্র মৌখিক সাক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রামানিক তথ্যগুলি কার্যকরভাবে প্রমাণ করা সম্ভব নয়। যেহেতু তাজমহল এএসআই (ASI)-এর নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি সংরক্ষিত স্মৃতিস্তম্ভ, তাই তারা দাবি করেন যে ট্রায়াল কোর্টে তারা তাজমহলের যে অংশগুলোর ওপর নির্ভর করতে চাইছেন, সেগুলোতে স্বাধীনভাবে প্রবেশ করা বা ছবি তোলার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
এই কারণেই পিটিশনাররা ২০১৭ সালে তাজমহল পরিদর্শন, ছবি ও ভিডিও করার জন্য এবং ট্রায়াল কোর্টে একটি রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য একজন অ্যাডভোকেট কমিশনার নিয়োগের আবেদন জানান। তবে, ট্রায়াল কোর্টে ২০১৯ সালের জুলাই মাসে এই আবেদনটি খারিজ করে দেয় এবং জানায় যে এক্ষেত্রে একজন কমিশনার নিয়োগের কোনো যৌক্তিকতা নেই। আগ্রার অতিরিক্ত জেলা জজও গত ৪ এপ্রিল সেই সিদ্ধান্তটিই বহাল রাখেন।
আরও পড়ুনঃ বর্ষায় সাপের উপদ্রব? ঘরে রাখুন এই চারটি জিনিস, ‘বাপ-বাপ’ করে পালাবে সাপ
এই আদেশে অখুশি হয়ে আবেদনকারীরা এবার দ্বারস্থ হয়েছেন এলাহাবাদ হাইকোর্টের। আইনজীবী বিষ্ণু শঙ্কর জৈন এবং সহায়ক আইনজীবী সৌম্য শ্রীবাস্তব দাবি করেন, দুই আদালতই এই দ্বন্দ্বের বিষয়গুলো সমাধানের জন্য স্থানীয় তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে কিনা তা অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং আবেদনের মেরিটের সঙ্গে সম্পর্কহীন কারণে তা খারিজ করে দিয়েছে। পিটিশনে বলা হয়েছে যে, স্মৃতিস্তম্ভটির পরিকাঠামোগত বৈশিষ্ট্য, স্থাপত্যগত বৈশিষ্ট্য এবং অন্যান্য দৃশ্যমান দিকগুলো শুধুমাত্র মৌখিক সাক্ষ্যের মাধ্যমে প্রমাণ করা সম্ভব নয়, তার জন্য পরিদর্শকের প্রয়োজন।