তাড়িয়েছিলেন বুদ্ধদেব, ঢুকতে দেননি মমতাও! ২০ বছর পর বাংলায় তসলিমা নাসরিন

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: অপেক্ষার অবসান, প্রায় ২০ বছর পরে অবশেষে কলকাতার মাটিতে পা রাখলেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasrin)। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী, আজ, শুক্রবার দুপুরে কলকাতা (Kolkata) বিমানবন্দরে নামেন তিনি। আর তাঁকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়েছিল সেক্যুলার মিশন এবং পশ্চিমবঙ্গের জন্য নামের দু’টি সংগঠনের সদস্যবৃন্দ। এছাড়াও বিমানবন্দরে অনুরাগীদের দেখে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তসলিমা। তাঁর উপস্থিতির জন্য বিমানবন্দরে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আপাতত তিনি দক্ষিণ কলকাতার একটি পাঁচতারা হোটেলে থাকবেন।

কলকাতায় এলেন তসলিমা নাসরিন

প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, আগামীকাল, ১ আগস্ট, শনিবার, মৌলবাদ বিরোধী কবি ও সাহিত্যিকদের আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশের বিখ্যাত সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিনের। তাই সেই অনুযায়ী আজই, কলকাতার উদ্দেশে বিমানে করে পাড়ি দিয়েছিলেন তিনি। দুপুর ১২ টা ৫০ মিনিট নাগাদ কলকাতা বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান লেখিকা। বিমানবন্দরে লেখিকাকে স্বাগত জানাতে রীতিমত আবেগঘন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। অনুরাগীদের হাতে তাঁর ছবি-সংবলিত ব্যানার নিয়ে সকলেই শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। প্রায় দুই দশক পর প্রিয় শহরে তাঁকে ফিরে পেয়ে তাসরিনের উচ্ছ্বাসও চোখে পড়ার মতো ছিল।

আবেগপ্রবণ লেখিকা

আজ সকালে, কলকাতায় পা রাখার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে সোশাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেছিলেন তসলিমা। সেখানে লিখেছিলেন, ‘আজি এ প্রভাতে কলিকাতা অভিমুখে যাত্রা করিলাম।’ পরনে এদিন ছিল সাদা লালপাড় শাড়ি। এর কয়েক ঘণ্টা পরে বিমানবন্দরে আসতেই সকলের এই উষ্ণ অভ্যর্থনায় তিনি আবেগপ্লুত হয়ে ওঠেন। আর সেই প্রতিক্রিয়া স্বরূপ সাংবাদিকদের হাসিমুখে জানালেন, “খুবই ভালো লাগছে।” আগামীকাল, রবীন্দ্রসদনে মৌলবাদ বিরোধী কবি-সাহিত্যিকদের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা তাঁর। শোনা যাচ্ছে সেই মঞ্চে থাকতে পারেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও।

আরও পড়ুন: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর উপর হামলার ছক! বর্ধমানে STF-র জালে ধরা পড়ল পাক জঙ্গি

প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালে ‘লজ্জা’ উপন্যাসকে কেন্দ্র করে উগ্রপন্থীদের তীব্র বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন। সেই সময় ছিল বামফ্রন্ট সরকার। পরিস্থিতি এতটাই অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছিল যে তসলিমাকে কলকাতা ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলেও তিনি ফিরতে পারেননি কলকাতায়। অবশেষে দীর্ঘ নির্বাসিত জীবন কাটানোর পর শুভেন্দুর আমলে এই প্রথম তিনি কলকাতায় ফিরলেন। যা সাহিত্য, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সামাজিক আলোচনার ক্ষেত্রে এক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ অর্থ বহন করছে।

Leave a Comment