তারাপীঠের অদূরেই ১৫০০ বছরের পুরনো মা লক্ষ্মীর মূর্তি, যোগ রয়েছে রামায়ণের সঙ্গে

সহেলি মিত্র, কলকাতা: আপনি কি জানেন, বাংলায় এমন এক গ্রাম রয়েছে যেখানে লক্ষ্মীপুজো হয় না। হ্যাঁ ঠিক শুনেছেন। জায়গাটি বীরভূমের তারাপীঠ থেকে মাত্র ১৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। আজ থেকে প্রায় দেড় হাজার বছর আগে স্বপ্নাদেশ পেয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় ময়ূরেশ্বরের ঘোষ গ্রামের মা লক্ষ্মীর মন্দির (Birbhum Laxmi Temple)। হ্যাঁ আজ কথা হবে এই অভূতপূর্ব গ্রামটিকে নিয়ে যেখানকার কোনও মানুষের বাড়িতে আজ অবধি লক্ষ্মী পুজো হয় না। দরকারও পড়েনি অবশ্য।

বাংলার এই গ্রামে কারোর বাড়িতে লক্ষ্মীপুজো হয় না

বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়েও এই ঘোষ গ্রামের মানুষ বাড়িতে পুজো না করে মন্দিরেই পুজো করেন। এই গ্রামের আরাধ্যা দেবীই হলেন মা লক্ষ্মী। বলা হয়, রাজা হর্ষবর্ধনের আমলে সাধক কামদেব ব্রহ্মচারী বীরভূমের রাঢ় অঞ্চলে মায়ের আসনের স্থান খুঁজে বেড়াচ্ছিলেন। একচক্র ধামে কিছুদিন থাকার পর একদিন বর্ষাকালে তিনি ঘোষ গ্রামে পৌঁছান। রাত হয়ে যাওয়ায় তিনি একটি নিমগাছের নিচে আশ্রয় নেন। এক সময়ে সাধক ঘুমিয়েও পড়েন। স্বপ্নে দেখেন ত্রেতা যুগে রাম, লহ্মণ এবং হনুমান বনবাসের পথে এই গ্রামেই কিছুদিন ছিলেন।

আরও পড়ুনঃ কলকাতার খুব কাছেই ‘মিনি পহেলগাঁও’, ঘুরে আসুন মাত্র ৫ টাকায়

এরপর সেই নিম গাছের তলায় বসেই কঠোর সাধনা শুরু করেন সাধক কামদেব ব্রহ্মচারী। বহু সাধনার পর একদিন মা লক্ষ্মী তাঁকে স্বপ্নাদেশ দেন এবং নাকি বলেন, ‘যেখানে বসে তুই সাধনা করছিস সেখানে মূর্তি ও সেটার পুজোর ব্যবস্থা কর। এই কাজের তোকে সাহায্য করবে গ্রামের এক শিক্ষক।’ জানলে অবাক হবেন, ঠিক সেই সময়ে গ্রামের এক দয়াল ঘোষ নামের কৃষক মাঠে চাষ করতে গিয়ে এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা পান। তাঁর ছেলেকে দেখা যায়, পাশের জলাশয় থেকে পদ্ম তুলতে চাইছে। এদিকে কৃষক ফুল তুলতে গেলে আশ্চর্যভাবে সেটা বারবার নাকি সরে যাচ্ছে। ফুল না পেয়ে বিষন্ন মনে বাড়ি ফিরে আসেন দয়াল ঘোষ। সেই রাতেই তিনি মা লক্ষ্মীর দেখা পান স্বপ্নে বলে খবর। সেই স্বপ্নেই তিনি সাধকের কথা জানতে পারেন। এরপর ভয়ে ভয়ে সেই নিম গাছের নিচে ছুটে যান কৃষক এবং সাধককে দেখতে পেয়ে তাঁকে সব খুলে বলেন।

তৈরী হয় মা লক্ষ্মীর ছোট কাঠের মূর্তি

এরপর একদিন সেই নিম গাছ কেটে সেখানে তৈরী হয় হয় মা লক্ষ্মীর ছোট কাঠের মূর্তি। অনেকের মতে, সেই কাঠটি নাকি শ্বেত পদ্মের সঙ্গে জলে ভেসে এসেছিল।যাইহোক, পরে সেই মা লক্ষ্মীর প্রাণ প্রতিষ্ঠা হয় এবং রীতি মেনে পুজো শুরু হয়। সেই আদিম মূর্তিটি মন্দিরে কিন্তু আজও বিদ্যুমান রয়েছে। পরে মুর্শিদাবাদের কান্দির রাজা কৃষ্ণচন্দ্র ঘোষ গ্রামে মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। পরে একটি নতুন মন্দিরও তৈরী হয়।

কীভাবে যাবেন?

এখন নিশ্চয়ই ভাবছেন কীভাবে এই গ্রামে পৌঁছাবেন? সেক্ষেত্রে আগে আপনাকে আগে তারাপীঠ আসতে হবে। এরপর সেখান থেকে প্রাইভেট গাড়ি ভাড়া করে বীরচন্দ্রপুর এসে ৩.৫ কিমি দূরত্বে থাকা ময়ূরেশ্বর-১ ব্লকে পৌঁছাতে হবে। সেখানে যাকে জিজ্ঞাসা করবেন সেই আপনাকে দেখিয়ে দেবে মন্দির।

 

Leave a Comment