প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রাজ্যের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান যাচাইয়ে এবার বড় উদ্যোগ নিতে চলেছে রাজ্যের শিক্ষাদপ্তর (West Bengal Education Department) ! জানানো হয়েছে, তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র ছাত্রীরা মাতৃভাষা পড়তে-লিখতে (Students Language Exam) না পারলে বড় শাস্তির মুখে পড়তে হবে খোদ শিক্ষকদের! শুধু তাই নয়, যদি পড়ুয়াদের শিক্ষার মান ভালো হয় তাহলে শিক্ষকদের পুরস্কৃত করা হবে, রবিবার আরএসএসের একটি অনুষ্ঠানে এমনই জানালেন রাজ্যের স্কুল শিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মণ।
শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে বিশেষ উদ্যোগ!
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, গতকাল অর্থাৎ রবিবার ফালাকাটা হাইস্কুলে RSS এর শিক্ষক সংগঠন অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় সংগঠনের এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। আর এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় মহাসংঘের জেলা সভাপতি বাসুদেব দত্ত, জেলার যুগ্মসম্পাদক সুমন্ত সিংহ, জেলা হিসাব পরিক্ষক প্রান্তিক দে-সহ বিভিন্ন নেতা থেকে শুরু করে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দপ্তরের মন্ত্রী দীপক বর্মণ। আর সেখানেই তিনি শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর মন্তব্য করেছিলেন। তাঁর কথায়, “ তৃতীয় শ্রেণির বাচ্চারা মাতৃভাষায় লিখতে ও পড়তে না পারলে সেক্ষেত্রে শিক্ষকরা শাস্তির কোপে পড়বেন।”
শিক্ষার মান যাচাই করা হবে তৃতীয় শ্রেণির পড়ুয়াদের
রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দপ্তরের মন্ত্রী দীপক বর্মণ জানিয়েছেন, “আমরা রাজ্যের প্রত্যেকটি স্কুলে অডিট করব। এই অডিটে তৃতীয় শ্রেণির বাচ্চারা মাতৃভাষায় লিখতে ও পড়তে পারে কি না তা পরীক্ষা করা হবে। যদি ছাত্র ছাত্রীরা মাতৃভাষায় লিখতে ও পড়তে না পারে সেক্ষেত্রে শিক্ষকদের শাস্তি দেওয়া হবে। এছাড়াও বাচ্চারা যদি বাংলায় লিখতে এবং পড়তে দুটোই ভালোভাবে পারে তাহলে শিক্ষকরা পুরস্কার পাবেন।” এছাড়াও মন্ত্রী আরও জানান, “বর্তমানে রাজ্যে প্রাথমিক স্তরে যেখানে প্রতি ২২ জন ছাত্রছাত্রী পিছু একজন করে শিক্ষক রয়েছেন। সেটি বিদকে ৩০ জন পড়ুয়া পিছু একজন শিক্ষক থাকবেন। এবং বাড়তি শিক্ষকদের অন্যত্র বদলি করা হবে। তার আগে শিক্ষকরা কোথায় বদলি হতে চান তা জানা হবে।”
আরও পড়ুন: পেনশনভোগীদের সুখবর দিল রেল, মিলবে অতিরিক্ত বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির সুবিধা
বদলি নিয়ে বড় ভাবনা শিক্ষা দপ্তরের
বদলির প্রসঙ্গে স্কুল শিক্ষা দপ্তরের মন্ত্রী জানিয়েছেন যদি কোনো শিক্ষক কোনো তথ্য দিতে না চান তাহলে শিক্ষা দপ্তর ওই শিক্ষকের বাড়ির ঠিকানা দেখে বদলি করবে। এবং জেলার বাইরে চাকরি করা স্কুল শিক্ষকদের নিজের জেলায় বদলির যথাসম্ভব চেষ্টা করবে সরকার। শুধু তাই নয়, চাকুরি যাওয়া ২৬ হাজার হাইস্কুল শিক্ষকদের প্রসঙ্গে দীপক বর্মণ জানিয়েছেন, “আদালতের রায় আমাদের মাথায় রয়েছে। আমরা দ্রুত হাইস্কুলে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করব। তারপরেও এসএসসি পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এই সরকারের ওপর ভরসা রাখুন।”
আরও পড়ুন: স্বামীর ক্যান্সার ধরা পড়ায় শুরু করেন চাষ, এখন বছরে ১ কোটি আয় মহিলার
শিক্ষা মন্ত্রীর এদিনের বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়েছেন অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘের রাজ্য অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক অসীম দাস। তিনি জানিয়েছেন, “এতদিন বিভিন্ন সরকার রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে। তবে শিক্ষা ব্যবস্থার পুনর্গঠনে অত্যন্ত সদর্থক ভূমিকা নিচ্ছে বর্তমান সরকার।” অন্যদিকে জেলার যুগ্ম সম্পাদক সুমন্ত সিংহ জানিয়েছেন, “আমাদের ভাবধারাই হচ্ছে রাষ্ট্রহিতে শিক্ষা, শিক্ষা হিতে শিক্ষক, শিক্ষক হিতে সমাজ। আমরা বিশ্বাস করি আমাদের স্কুল আমাদের গর্ব।”