তৃতীয় সন্তানের জন্মে ৩০ হাজার, চতুর্থে মিলবে ৪০! বড় ঘোষণা রাজ্য সরকারের

আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: ক্রমাগত কমতে থাকা জন্মহার নিয়ে বর্তমানে সরকারের কপালে চিন্তার ভাঁজ। বিষয়টি নিয়ে বেশ সমস্যায় পড়েছেন রাজ্য সরকার। আসন্ন ভবিষ্যতের জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি উদ্বেগের বিষয়। কর্মক্ষেত্রের উপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর আশঙ্কা, এইভাবে যদি জন্মহার (Birth Rate) কমতে থাকে, তাহলে আগামী দিনে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কমে যাবে। একইসঙ্গে বাড়তে থাকবে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা। সেই বয়স্ক মানুষদের দেখার জন্যও তো মানুষ দরকার! এই পরিস্থিতি সামাল দিতে এখন থেকেই ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তাই পরিবারগুলিকে বেশি সন্তান নেওয়ার বিষয়ে উৎসাহিত করতে এবার একটি অভিনব উপায় বের করেছেন তিনি।

তৃতীয় সন্তানে মিলবে ৩০ হাজার?

জন্মহার বাড়াতে অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার এবার আর্থিকভাবে উৎসাহ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডু জানিয়েছেন, কোনও পরিবার তৃতীয় সন্তানের জন্ম দিলে তাদের ৩০ হাজার টাকা দেওয়া হবে। চতুর্থ সন্তানের ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তার পরিমাণ আরও ১০ হাজার টাকা বাড়িয়ে ৪০ হাজার টাকা করার ঘোষণা করেছেন তিনি। সরকারের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হল পরিবারগুলিকে সন্তান নেওয়ার বিষয়ে উৎসাহিত করা এবং রাজ্যের কমতে থাকা জন্মহারের গতি কমানো।

চন্দ্রবাবু নায়ডুর বক্তব্য, জন্মহার দীর্ঘদিন ধরে কমতে থাকলে তার প্রভাব শুধু পরিবারের উপর নয়, গোটা রাজ্যের জনসংখ্যার কাঠামোর উপর পড়তে পারে। কর্ম ক্ষমতা রয়েছে এমন মানুষের সংখ্যা কমে গেলে ভবিষ্যতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করার মতো মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। ফলে হিউম্যান রিসোর্স-এর অভাব তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে, বয়স্ক জনসংখ্যার হার বাড়লে তাঁদের দেখভালের প্রয়োজনও বাড়বে। তাই এখন থেকেই জন্মহারের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন তিনি।

আরও পড়ুন: অসুস্থ মাকে দেখার জন্য প্যারোলে মুক্তি পাননি চিন্ময় কৃষ্ণ, অবশেষে প্রয়াত সন্ধ্যারানী দেবী

এই পরিস্থিতির কথা বিচার বিবেচনা করেই পরিবারগুলিকে আরও সন্তান নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তৃতীয় ও চতুর্থ সন্তানের ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তার ঘোষণাও সেই উদ্যোগেরই একটি অংশ। নায়ডুর মতে, জনসংখ্যার ভারসাম্য বজায় রাখা এবং ভবিষ্যতে পর্যাপ্ত কর্মক্ষম জনসংখ্যা নিশ্চিত করার জন্য জন্মহার বৃদ্ধি করতেই হবে। নইলে কাজ করতে সক্ষম মানুষের অভাবে রাজ্যে অচলাবস্থা তৈরি হবে।

Leave a Comment