সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পাকিস্তানের (Pakistan) খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের ডেরা ইসমাইল খান জেলায় আনুমানিক ২০০ বছরের পুরনো একটি ঐতিহাসিক হিন্দু মন্দির সিল করল প্রশাসন। ওই মন্দিরটি ভেঙে সেখানে একটি বাণিজ্যিক প্লাজা তৈরি করার পরিকল্পনা ছিল বলে খবর। তবে স্থানীয় বাসিন্দা এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানলে ঘটনার হস্তক্ষেপ করে প্রশাসন।
২০০ বছরের পুরনো হিন্দু মন্দির সিল পাকিস্তানে
ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী খবর, ডেরা ইসমাইল খান শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত রহিম বাজারের ঐতিহাসিক রামলীলা মন্দিরটি প্রশাসনের তরফ থেকে সিল করা হয়েছে। গত সপ্তাহে স্থানীয় বাসিন্দারা লক্ষ্য করেন যে ওই মন্দিরের ঐতিহাসিক কাঠামোটি ভেঙে ফেলার জন্য কিছু শ্রমিক কাজ করছেন। খবর পাওয়া মাত্রই ডেরা ইসমাইল সোসাইটি এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সোহেল আহমেদ আজমি ও অন্যান্য বাসিন্দারা ছুটে যান এবং ভাঙার কাজ রুখে দেন। স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। এরপর পাকিস্তানের ইভাকুই ট্রাস্ট প্রপার্টি বোর্ড শনিবার ঘটনাস্থলে গিয়ে মন্দিরটি নিজেদের হেফাজতে নিয়ে সিল করে।
এই ঘটনার পর স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায় এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা একটি বৈঠকে বসে অবিলম্বে সম্পত্তি বেদখল করার চেষ্টা এবং এর মালিকানা নিয়ে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। এর পাশাপাশি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে বিষয়টি পাকিস্তানের জাতীয় সংসদে তোলার দাবিও জানানো হচ্ছে। এমনকি রিপোর্ট অনুযায়ী ডেরা ইসমাইল খান জেলায় আনুমানিক ৪০০টি ভবন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যবাহী সম্পত্তি হিসেবে চিহ্নিত। দেশভাগের পর যাঁরা ভারতে চলে গিয়েছিলেন তাঁদের ফেলে যাওয়া সম্পত্তি এবং সংখ্যালঘু ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ট্রাস্টের সম্পত্তি দেখভাল করার দায়িত্ব এই সরকারি বোর্ডের হাতেই।
আরও পড়ুন: চোরবাগান কাণ্ডে নিহতদের বাড়ি গিয়ে দেখা করলেন মুখ্যমন্ত্রী, দিলেন পাশে থাকার আশ্বাস
বর্তমান সময়ে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে চলছে রাজ্যপাল শাসন। অল পাকিস্তান হিন্দু রাইটস আন্দোলনের চেয়ারম্যান হারুন সারাব দিয়াল আশা প্রকাশ করছেন যে বর্তমান গভর্নর শাসনের সময়ে এই মন্দিরসহ অন্যান্য ধর্মীয় স্থানগুলি বিশেষ সুরক্ষা পাবে। এমনকি একই সঙ্গে তিনি ২০১৩ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ধর্মীয় সম্পত্তি বেআইনিভাবে বিক্রি বা দখল করার ঘটনাগুলির তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।