আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: “ভোট চোর”, “গদি চোর”! সকাল থেকেই উত্তপ্ত রাজপথ। দুর্গাপুজোর আবহেই নির্বাচন কমিশনের (Election Commissioner) ভূমিকা নিয়ে কলকাতার (Kolkata) বুকে প্রতিবাদে সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী শিবির। মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর কলকাতার রাজাবাজার থেকে পার্ক সার্কাস পর্যন্ত মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছিল। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) পদত্যাগ (Resignation) এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিকে সামনে রেখেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
ভোট চুরি করেছে বিজেপি? উঠল একাধিক দাবি
তৃণমূলের এই শিবিরের অভিযোগ, এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যোগ্য ভোটারদের তালিকা থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। এমন অনেক ভোটার রয়েছেন যাদের অধিকার ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাদের বক্তব্য, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রত্যেক যোগ্য নাগরিকের ভোট দেওয়ার অধিকার সুরক্ষিত থাকা প্রয়োজন। এটা মানুষের অন্যতম সাংবিধানিক অধিকার। নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে যাতে কোনও প্রশ্ন না ওঠে, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। সেই কারণেই কমিশনের কাছে জবাবদিহি দাবি করেছেন আন্দোলনকারীরা।
তবে এই মিছিলকে একেবারেই ভালো চোখে দেখেনি শাসক দল। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজাবাজারে মিছিল আটকে দেয়। প্রশাসনের তরফে কর্মসূচিটিকে অনুমতিহীন বলে বিবেচনা করার কথা জানিয়েছে সংবাদসংস্থা ইউএনআই। মিছিল এগোতে না পারলেও থেমে থাকেননি তাঁরা। কোনও কিছুর তোয়াক্কা না করে ঘটনাস্থলেই বিক্ষোভ ও সভা করেন আন্দোলনকারীরা। তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ পুলিশের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন এবং তাঁদের আন্দোলনকে আটকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করছিলাম। আমরা কোনওরকম আইনবিরোধী কাজ করিনি। এই মিছিলের কথা আগের থেকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু তাও আমাদের পথ আটকে দেওয়া হয়েছে। আসলে ওরা ভয় পেয়েছে।”
এই কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তপ্ত রাজনৈতিক মহল। সূত্র অনুযায়ী, এর আগে এক সভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, পুজোর সময়ে কোনও বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না। প্রয়োজন হলে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের কথাও জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই গুড়ে বালি। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, গণতান্ত্রিক অধিকার ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার তাঁদের রয়েছে।
এসআইআর নিয়ে বিতর্ক অবশ্য শুধু কলকাতাতেই সীমাবদ্ধ নয়। এর আগে দিল্লিতেও বিরোধী জোটের নেতারা এই প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি তুলেছেন। বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ পড়তে পারে। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, নাম বাদ না দিলে প্রশাসনিক কার্যে স্বচ্ছতা আনা যাচ্ছিল না। মৃত, স্থানান্তরিত, দ্বৈত ও অযোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দিয়ে তালিকার স্বচ্ছতা বজায় রাখাই এই প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য।
আরও পড়ুন: পদত্যাগ করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, ছাড়লেন বিজেপির সাংসদ পদও, জানুন কারণ
সব মিলিয়ে, এসআইআর প্রক্রিয়া এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক দিন দিন আরও জোরালো পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, যোগ্য ভোটারদের অধিকার রক্ষা, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা বজায় রাখতে কমিশনকে জবাবদিহি করতে হবে। একই সঙ্গে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও এসআইআর বাতিলের দাবিও তাঁরা সামনে রেখেছেন।