বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: দাস ব্যবস্থা এবং ঔপনিবেশিক শাসনের জন্য ভারত সহ একাধিক দেশের কাছে ক্ষমা চাইতে প্রস্তুত ব্রিটেন (United Kingdom)। সম্প্রতি কমনওয়েলথ সম্মেলনে যোগদানের আগে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম জানিয়েছিলেন, অতীতের দাস প্রথার জন্য ভারত সহ 56টি দেশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইতে তৈরি ব্রিটেন। তবে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করলেও আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি সরাসরি নাকচ করেছেন তিনি।
ক্ষমা চাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ব্রিটেন!
দ্য গার্ডিয়ানের একটি নিবন্ধে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, “আটলান্টিক মহাসাগর পেরিয়ে আফ্রিকার লাখ লাখ মানুষকে দাস হিসেবে ব্যবহার এবং তাঁদের উপর চালানো নির্মম অত্যাচারের ইতিহাস উপেক্ষা করা যায় না। এই ধরনের ঘটনা সমাজে এবং মানুষের জীবনে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে, সেটা অস্বীকার করার জায়গা নেই। সে কারণেই ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলির সাথে কৌশলগতভাবে আলোচনা শুরু করতে চায় ব্রিটেন।”
তবে এদিন দেশটির প্রধানমন্ত্রী একেবারে স্পষ্ট করে জানান, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলির কাছে ক্ষমা চাইলেও তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি পুরোপুরি নাকচ করছে ব্রিটেন। বার্নহ্যামের যুক্তি, বহু প্রজন্ম আগে ঘটে যাওয়া অন্যায়, অবিচারের জন্য বর্তমান প্রজন্মের ব্রিটিশ নাগরিকদের দায়ী করা যায় না। ইতিহাসে যা লেখা রয়েছে সেই অন্যায়ের সাথে বর্তমান প্রজন্মের যুবক, যুবতী থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্কদের কোনও সম্পর্ক নেই! তাই আর্থিক ক্ষতিপূরণকে সমস্যার সঠিক সমাধান বলে মনে করেন না ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী।
আরও পড়ুন: ইণ্ডি জোটের প্রতিবাদ কর্মসূচি থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নিল CJP! মমতার সাথে দেখা করেই ঘোষণা
ভারত সফরের ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন বার্নহ্যাম
ভারত এবং ব্রিটেনের মধ্যেকার অংশীদারিত্বের কথা উল্লেখ করে বৃহস্পতিবার এক কূটনীতিবিদ জানান, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বার্নহ্যাম ভারত সফরের জন্য আগ্রহী এবং এই সফর খুব শীঘ্রই হতে পারে। ভারতে নিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত ব্রিটিশ হাই কমিশনার বেন মেলরও সম্প্রতি সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ব্রিটেনের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে কথা বলার সময় ভারত সফরের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন বার্নহ্যাম। মেলর বলেন, “আমি জানি অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ভারত সফরের জন্য খুবই আগ্রহী। খুব শীঘ্রই এদেশে আসতে পারেন তিনি।”