বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ময়দান থেকে সময়ের সাথে সাথে হারিয়ে গিয়েছে কত প্রতিভা (Kolkata Football News)। যাঁরা মূলত কলকাতা ময়দান সম্পর্কে খোঁজ খবর রাখেন তাঁরা জানবেন একটা সময় ইস্টবেঙ্গলের (East Bengal) হয়ে মাঠ কাঁপাতেন হুগলির হরিপালের ছেলে ষষ্ঠী দুলে (Sasthi Duley)। 2003 সালে ইস্টবেঙ্গলের আসিয়ান কাপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল এই ফুটবলারের। সেই ষষ্ঠী দুলের অতীত বেশ দুঃখজনক। জানলে অবাক হবেন, সংসার চালানোর জন্য একটা সময় দিনমজুরের কাজও করেছেন ইস্টবেঙ্গলের হয়ে খেলা এই ফুটবলার। বর্তমানেও যে তাঁর আর্থিক অবস্থা আহামরি তেমনটা নয়। বরং নিজের গ্রামে একেবারে সাধারণ জীবন যাপন করেন এই প্রাক্তন ফুটবলার।
দিনমজুরি করে সংসার চালাতে ইস্টবেঙ্গলে খেলা প্লেয়ার
জন্ম হয়েছিল হুগলির হরিপালে। গ্রামের বাড়িতে ছোট থেকেই অর্থনৈতিক কষ্টের মধ্যে দিয়েই মানুষ হয়েছিলেন ষষ্ঠী। চরম দারিদ্রতার মধ্যে দিয়ে শৈশব কাটাতে কাটাতেই মাত্র দু’বছর বয়সে বাবাকে হারান তিনি। আর তারপর থেকেই শুরু হয় জীবনের আসল লড়াই। একেবারে ছোট্ট বয়সে যেখানে অন্যান্য ছেলে মেয়েরা ছোটাছুটি করে বেড়ায় সেখানে মায়ের সাথে অভাবের সংসারে কার্যত দিনরাত গুমরে গুমরে কাঁদতে হয়েছে তাঁকে!
ফুটবলে আসার আগে সংসারের হাল ধরতে একটা সময় দিনমজুরিও করেছিলেন ষষ্ঠী দুলে। প্রচন্ড অভাবের কারণে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা পাননি হুগলির ছেলে। তবে ছোট থেকেই একজন বড় মাপের ফুটবলার হওয়ার একটা অদম্য ইচ্ছা ভেতরে ভেতরে কাজ করতো ষষ্ঠী দুলের। সেখান থেকেই প্রথম সারির ফুটবলে পা বাড়ান তিনি। যদিও তার আগে শিবু ধাড়া ও সুধীর কর্মকারের ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন এই খেলোয়াড়। 1994-95 সালে মাত্র 2,000 টাকার চুক্তিতে মহামেডান ক্লাবে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। পরবর্তীতে মোহনবাগানে যোগ দিলেও সেখানে খেলার খুব একটা সুযোগ পাননি ষষ্ঠী দুলে।
যদিও নামজাদা কোচ অমল দত্তের অধীনে টালিগঞ্জ অগ্রগামী ক্লাবের হয়ে খেলার সময় নিজের জাত চিনিয়েছিলেন এই প্রাক্তন ফুটবলার। তবে জীবনের স্বর্ণযুগ ছিল ইস্টবেঙ্গলের হয়ে খেলার সময়টা। লাল হলুদের যোগ দেওয়ার পর একটা দীর্ঘ সময় নিজেকে মেলে ধরার সুযোগ পেয়েছিলেন ষষ্ঠী দুলে। 2003 সালে তৎকালীন কোচ সুভাষ ভৌমিকের তত্ত্বাবধানে ইস্টবেঙ্গলকে আসিয়ান কাপ জিতিয়েছিলেন তিনি। সেটাই নিজের জীবনের খাতায় একেবারে বড় হরফে লিখে রেখেছেন এই বাঙালি ফুটবলার। মাঠে অক্লান্ত পরিশ্রম করে রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার হিসেবে নিজের ক্ষমতা বুঝিয়েছিলেন ষষ্ঠী দুলে। হয়ে উঠেছিলেন ইস্টবেঙ্গলের ঘরের ছেলে।
আরও পড়ুন: ISL এ খেলতে নামার আগেই চার্চিল ব্রাদার্সকে ব্যান করল FIFA, কারণ কী?
তবে ইস্টবেঙ্গলের প্রাক্তন ফুটবলার নিজের জীবনের প্রথম ধাক্কাটা খেয়েছিলেন 2004 সালে। কলকাতার কুখ্যাত অপরাধী হাত কাটা দিলীপকে হরিপালে নিজের গ্রামের বাড়িতে আশ্রয় দেওয়ার কারণে গ্রেফতার হয়েছিলেন তিনি। এই ঘটনায় একটা দীর্ঘ সময় জেল হেফাজতে থাকতে হয়েছিল ইস্টবেঙ্গলের প্রাক্তন ফুটবলারকে। ঠিক সে কারণেই ডুরান্ড কাপের দল থেকেও বাদ পড়েছিলেন তিনি। পরবর্তীতে আদালতে জামিন পেলেও ফিটনেস জনিত কারণে একটা সময় ফুটবল থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন ষষ্ঠী দুলে। মাঝে রাজনীতিতেও প্রবেশ করেছিলেন তিনি। যুক্ত হন ভারতীয় জনতা পার্টিতে।
যদিও বর্তমানে হুগলির গ্রামের বাড়িতেই থাকেন ষষ্ঠী দুলে। ভারতীয় জনতা পার্টির কোনও বড় পদে না থাকলেও রাজনীতির ময়দানে প্রায়শই দেখা যায় এই প্রাক্তন ফুটবলারকে। সাম্প্রতিক সময় বেশ কিছু MLA কাপের অনুষ্ঠানেও হাজির হতে দেখা গিয়েছিল এই বাঙালির ফুটবলারকে। ঘনিষ্ঠ মহলে কান পাতলে শোনা যায়, রাজনীতির পাশাপাশি ময়দানের নিয়মিত খোঁজ খবর রাখেন ষষ্ঠী। পুরনো দল ইস্টবেঙ্গলে কী চলছে না চলছে তাও কমবেশি জানেন বাংলার এই প্রতিভাবান ফুটবলার।