সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: আপাতত জ্ঞানেশ কুমার এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলন স্থগিত রাখার ঘোষণা করেছেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে (Abhijeet Dipke)। তবে তা সত্ত্বেও শনিবার কোচিতে একটি সমাবেশ করে ককরোচ জনতা পার্টি। আর সেই সমাবেশে যোগদান করেছিলেন দলের প্রধান অভিজিৎ। তবে জানলে অবাক হবেন, দেশজুড়ে আজ দীপাবলি পালিত হলেও গতকাল সারারাত অভিজিৎকে বিমানবন্দরে কাটাতে হয়। নিজেই সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে এ কথা জানালেন তিনি। তাহলে কি আবারও বড়সড় কোনও আন্দোলনের ডাক ককরোচদের?
সারারাত এয়ারপোর্টে কাটালেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা
রবিবার সকালে এনসিপির জাতীয় মুখপাত্র অনীশ গাওয়ান্ডের একটি টুইটের জবাব দিয়ে দীপকে জানান যে তাঁকে সারারাত বিমানবন্দরে কাটাতে হয়। গাওয়ান্ডে লিখেছিলেন, “দীপাবলিতে এয়ারপোর্টে যেতে আমার খুব ভালো লাগে। সবাইকে তাঁদের সেরা ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সেজে একে অপরের দিকে তাকিয়ে হাসতে দেখাটা সত্যিই খুব মনোরম। মন ভালো থাকলে এয়ারপোর্টে ঘুরে বেড়ানো যে কতটা মজার হতে পারে তা আমি ভুলেই গিয়েছিলাম। আপনি এয়ার ইন্ডিয়ার যত খুশি সমালোচনা করতে পারেন। তবে এটি আমার কাছে বিশ্বের মধ্যে প্রিয় এয়ারলাইন। ফ্লাইটে ক্রুদের কাছ থেকে পাওয়া একটি উষ্ণ হাসির চেয়ে ভালো আর কিছুই হতে পারে না। এটি আপনাকে একেবারে বাড়ির মতো অনুভূতি দেয়।”
তবে গাওয়ান্ডের সেই পোস্ট রিটুইট করে অভিজিৎ লেখেন, “আমি বিমানবন্দরে একটি রাত কাটিয়েছি। দেরিতে ছাড়ার কানেক্টিং ফ্লাইটের জন্য অপেক্ষা করতে করতে আমার ঘুম হয়নি। আমি শুধু কোচির বিক্ষোভ থেকে বাড়ি ফেরার চেষ্টা করছিলাম, যাতে দিওয়ালি মিস করার জন্য মা আমাকে মেরে না ফেলেন। কী চমৎকার এক উৎসবের অভিজ্ঞতা।” অন্য একটি টুইটে তিনি আবার সবাইকে শুভ দীপাবলির শুভেচ্ছা জানান। সেখানে দীপকে লেখেন, “আপনাদের সকলের সঙ্গে সংঘাতমুক্ত দীপাবলির অনেক অনেক শুভেচ্ছা।”
Meanwhile, I spent the night at an airport, sleep-deprived and waiting for a delayed connecting flight. Just desperately trying to get home from the Kochi protest so my mom wouldn’t kill me for missing Diwali.
Such a lovely festive experience. 🙂
— Abhijeet Dipke (@abhijeet_dipke) November 8, 2026
আরও পড়ুন: সিভিক ভলান্টিয়ারদের উপর শাস্তির খাঁড়া? বেআইনি নিয়োগ যাচাইয়ের নির্দেশ সরকারের
বলার অপেক্ষা রাখে না, শনিবার কোচিতে জনসভায় দাঁড়িয়ে অভিজিৎ দীপকে দাবি করেন, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি ক্ষমতাচ্যুত হবে। এমনকি তিনি কেন্দ্রের ক্ষমতা পরিবর্তনের জন্য জনগণকে প্রস্তুত থাকারও আহ্বান জানান। ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিজেপির কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এক প্রতিবাদে ভাষণ দিতে গিয়ে দীপকে বলেন, শুধুমাত্র নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন সম্ভব। তাঁর কথায়, “২০২৯ সালের জন্য প্রস্তুত থাকুন। মোদী অবশ্যই ক্ষমতার বাইরে যাবেন। সরকার পরিবর্তন কেবল নির্বাচনের মাধ্যমেই হবে।”