বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: একটা সময় ছিল যখন, যুদ্ধের (War) ময়দানে উপস্থিত থাকতো বড় বড় সামরিক ট্যাঙ্ক, যুদ্ধবিমান থেকে শুরু করে অন্যান্য ডিফেন্স সিস্টেম। তবে সময়ের সাথে সাথে বদলেছে যুদ্ধের চেহারা। পাল্টেছে রণকৌশল। যার উজ্জ্বল উদাহরণ রাশিয়া এবং ইউক্রেনের যুদ্ধ। এই যুদ্ধ প্রমাণ করে দিয়েছে, বড় বড় কামান না রেখেও শুধুমাত্র রাডার, ছোট ড্রোন, স্যাটেলাইট থেকে শুরু করে রেডিও যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমেও শত্রুকে শেষ করা যায়! সেই শিক্ষাকে সামনে রেখেই এবার এগোতে চাইছে ভারতীয় সেনাবাহিনীও (Indian Army)। সেই সূত্রেই দেশের যুদ্ধ কৌশলেও আসছে বড় বদল!
বদলে যাচ্ছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর রণকৌশল
ভারতীয় সেনার একটি সূত্র বলছে, যুদ্ধের পুরনো ধ্যান ধারণা থেকে বেরিয়ে এবার পুরোপুরি আধুনিক যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত। সেনাবাহিনীতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ইলেকট্রোম্যাগনেটিক স্পেকট্রাম কন্ট্রোলকেও। এখানে বলে রাখা প্রয়োজন, স্পেকট্রাম কন্ট্রোল হল সেই ব্যবস্থা যা মূলত সেনাবাহিনীর রাডার থেকে শুরু করে ড্রোন সহ অন্যান্য অত্যাধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা যে সিগন্যালের মাধ্যমে কাজ করে সেটিকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করে।
বিশেষজ্ঞ মহলের, এই অত্যাধুনিক ব্যবস্থায় নিজেদের যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রেখে শত্রুর প্রয়োজনীয় সিগন্যালিং সিস্টেমকে ধ্বংস করে দেওয়া যায়। এক কথায় বলতে গেলে, ভারতীয় সেনাবাহিনী এই ব্যবস্থার মাধ্যমে নিজে শত্রুকে দেখতে পেলেও শত্রু কার্যত অন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা ভারতীয় সেনার গতিবিধিতে নজর রাখতে পারবে না! মূলত আধুনিক যুদ্ধে তথ্য আদান-প্রদান এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার গুরুত্ব বাড়ার সাথে সাথে বাড়ছে এই বিশেষ ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা।
⚔️ CONTROL THE SPECTRUM. DOMINATE THE BATTLEFIELD. 🇮🇳
The next war will not be won by numbers alone. It will be won by those who see faster, connect smarter and strike with precision.
At unforgiving heights, troops of #VictoryForCertainBrigade under #GoldenKeyDivision are… pic.twitter.com/uhSZPr1cgF
— Uttar Bharat (@UBArea_IA) September 4, 2026
আরও পড়ুন: ইনস্টাগ্রামে প্রেম! স্বামী, দুই সন্তান ও চাকরি ছেড়ে ১৮-র যুবকের সঙ্গে পালাল ঝাড়গ্রামের গৃহবধূ
বলাই বাহুল্য, সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বে সংগঠিত নানান যুদ্ধ থেকে শিক্ষা নিয়েছে ভারত। যুদ্ধের ময়দানে প্রচুর সংখ্যক সৈন্য নিয়োগ করে প্রাচীন পদ্ধতিতে যুদ্ধ করার থেকে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান, ড্রোন ও রাডারের মাধ্যমে শত্রুকে কাবু করার যে কৌশল তা ধীরে ধীরে রপ্ত করতে পেরেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। মূলত সে কারণে, কাহিক পরিশ্রম করে যুদ্ধ করার চেয়ে মগজ খাটিয়ে আধুনিক যুদ্ধের দিকে ঝুঁকেছে নয়া দিল্লি। সেই সূত্রেই, দ্রুত সেনা পরিচালনার পাশাপাশি ড্রোন সেন্সর সিস্টেম, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে যুদ্ধ করার বিষয়গুলিও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে ভারতীয় সেনায়।