প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ভারতবর্ষে এমন অনেক জায়গা রয়েছে, যার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য রীতিমত হার মানায় বিশ্বের বাকি দেশের সৌন্দর্য্যকে। প্রকৃতির তৈরি একের পর অপূর্ব সৃষ্টি এতটাই ভরপুর দেশে (India) যে এক জন্মে সবকিছু দেখা সম্ভব নয়। কোথাও পর্বত, কোথাও সমুদ্র, কোথাও মরুভূমি আবার কোথাও শস্য শ্যামল সমতল সব মিলিয়ে একেক জায়গার একেক রূপ। আপনি কি জানেন (GK) দেশের এই অংশেই রয়েছে এমন এক আশ্চর্য হ্রদ যা হার্ট শেপের মত (Heart Shaped Island)। তাহলে সম্পূর্ণটা জেনে নিন বিস্তারিত।
হার্ট শেপ আইল্যান্ড ভারতে
আশ্চর্য হ্রদের সম্ভারের কথা বললেই সবার প্রথমেই আমাদের মাথায় আসে বাইরের দেশের একাধিক জায়গা। কিন্তু সবচেয়ে মজার বিষয় হল আমাদের ভারতবর্ষেও অনেক সুন্দর আকৃতির হ্রদের সম্ভার রয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম হল কর্ণাটকের নেত্রানি দ্বীপ। আরব সাগরে অবস্থিত এই ছোট দ্বীপটি তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, স্বচ্ছ জল এবং রঙিন সামুদ্রিক জীবনের জন্য বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত। এটি হার্ট শেপ আইল্যান্ড বা পিজিয়ন আইল্যান্ড নামেও বিশ্বজুড়ে পরিচিত। তাই মালদ্বীপ বা আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে যাওয়ার আগে অবশ্যই ঘুরে আসতে পারেন কর্নাটকের এই বিখ্যাত জায়গা থেকে।
‘নেত্রানী দ্বীপ’ কোথায় অবস্থিত?
ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী কর্ণাটকের উত্তর কন্নড় জেলায় অবস্থিত নেত্রানি দ্বীপটি মুরুদেশ্বর উপকূল থেকে প্রায় ১৯ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। উপর থেকে এটিকে হার্ট শেপের মত দেখায়, যে কারণে অনেকে একে ‘হৃদয় আকৃতির দ্বীপ’ বলে থাকেন। নীল সমুদ্র এবং মাঝখানের সবুজ গাছপালায় ঘেরা এই ছোট দ্বীপটি দূর থেকে দেখতে এতটাই সুন্দর লাগে যে একবার গেলে সহজে মন ভরবে না। প্রতিবছর বহু মানুষে এখানে বনভোজনের উদ্দেশ্যে আসেন। ছোটো নৌকা চড়ে হ্রদে ঘুরে বেড়ানোর ব্যবস্থাও রয়েছে এখানে।
আরও পড়ুন: জানেন আকাশে এই সাদা লম্বা দাগ কেন দেখা যায়? রইল বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা
একসময় এই দ্বীপে প্রচুর পায়রা উড়ে এসে বাসা বানিয়ে থাকত, সেই কারণে এই দ্বীপকে আবার ‘ পায়রা দ্বীপ’ ও বলা হয়ে থাকে। এছাড়াও নেত্রানি দ্বীপকে ভারতের অন্যতম সেরা স্কুবা ডাইভিং সেন্টার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারণ এখানকার সমুদ্র অত্যন্ত স্বচ্ছ, যার ফলে কয়েক মিটার গভীর পর্যন্ত সহজেই দেখা যায় জলের নীচে থাকা রঙিন মাছ, সামুদ্রিক কচ্ছপ এবং বিভিন্ন ধরণের সামুদ্রিক প্রাণী। অক্টোবর থেকে মে মাসে এই দ্বীপে পর্যটকদের ভিড় সবচেয়ে বেশি থাকে কারণ বর্ষাকালে উঁচু ঢেউ এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এখানে কেউ আসতে চায় না।