আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: একসময় চিঠি পাঠানো, পার্সেল বুকিং কিংবা টাকা জমা ও তোলার মতো কাজেই মূলত পোস্ট অফিসে যেতেন মানুষ। তবে সময়ের সঙ্গে ডাক পরিষেবার পরিসরও বদলাচ্ছে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের চাহিদার কথা মাথায় রেখে পশ্চিমবঙ্গে (West Bengal) চালু হয়েছে পাঁচটি নেক্সট জেন (Next Gen) বা এন-জেন পোস্ট অফিস (Post Office)। আধুনিক পরিকাঠামো ও প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে ডাকঘরগুলিকে আরও আকর্ষণীয় এবং গ্রাহকবান্ধব করে তোলাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।
কেমন হতে চলেছে এই Next Gen?
মূলত রাজ্যের পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এই আধুনিক ডাকঘরগুলি গড়ে তোলা হয়েছে। তালিকায় রয়েছে আইআইটি খড়গপুর, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, হলদিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি এবং কল্যাণী। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত পড়ুয়া ও অন্যান্য গ্রাহকদের কাছে ডাক পরিষেবাকে আরও সহজে পৌঁছে দেওয়ার জন্যই এই উদ্যোগ। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের সঙ্গে পোস্ট অফিসের যোগাযোগ বাড়ানোর দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কারণ একাধিক বিকল্প ব্যবস্থা চলে আসার দরুন, নতুন প্রজন্মের অনেক ব্যক্তির কাছেই এখন পোস্ট অফিস গুরুত্বহীন। তাদের কাছে এই স্থানটির পরিচিতি তুলে ধরার চেষ্টা করছে সরকার।
এই ডাকঘরগুলিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে এবং পরিষেবা নেওয়ার অভিজ্ঞতাকে আরও রোমাঞ্চকর করতে, সোফা এবং বিনামূল্যে ওয়াই-ফাইয়ের মতো সুবিধার কথা উঠে এসেছে। পাশাপাশি প্রিন্টিংয়ের ব্যবস্থা, চা-কফি এবং পত্রিকা ও সংবাদপত্র পড়ার সুযোগও থাকবে বলে জানা গিয়েছে। অর্থাৎ, প্রচলিত ডাক পরিষেবার পাশাপাশি গ্রাহকদের জন্য আরও আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
ডাক বিভাগের এই পদক্ষেপকে বৃহত্তর আধুনিকীকরণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, পরিষেবাকে আরও দ্রুত ও সহজ করা এবং সাধারণ মানুষের কাছে ডাক বিভাগের বিভিন্ন সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ ডাক বিভাগ আরও একটি পদক্ষেপ নিয়েছে। আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় ই-কেওয়াইসি এবং উপভোক্তাদের বাড়িতে কার্ড পৌঁছে দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকারের সঙ্গে সমঝোতাপত্র স্বাক্ষরের কথাও জানিয়েছে এই সংস্থা।
আরও পড়ুন: “অজানা উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছে আমাদের” এবার দিল্লি পুলিশের হাতে আটক মমতা বন্দোপাধ্যায়েরা
সব মিলিয়ে, নেক্সট জেন পোস্ট অফিসের উদ্যোগে ডাকঘরের পরিচিত পরিষেবার সঙ্গে আধুনিক পরিকাঠামো ও প্রযুক্তির সংযোগ ঘটানোর চেষ্টা চলছে। যেকোনও পুরনো কিছুর সঙ্গে প্রযুক্তি মিশে গেলেই তাতে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগে। সেটারই চেষ্টা করছে পোস্ট অফিস। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের কাছে পোস্ট অফিসকে আরও প্রাসঙ্গিক করে তোলা এবং গ্রাহকদের পরিষেবা গ্রহণের অভিজ্ঞতা আরও মধুর করাই এই মুহূর্তে ডাক বিভাগের অন্যতম লক্ষ্য।