আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: নন্দীগ্রাম (Nandigram) ২০২৬-এর উপনির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী কে হবেন, এতদিন তা স্পষ্টভাবে সামনে আসেনি। অনেকের ধারণা ছিল, প্রার্থী হিসেবে দাঁড়াতে পারেন অখিল গিরি। প্রাক্তন মন্ত্রী ফের প্রার্থী হবেন? এই নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে। এরই মধ্যে শুক্রবার অখিল গিরিকে ফোন করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরের দিন অর্থাৎ শনিবার তাঁকে কালীঘাটের বাড়িতে ডেকে পাঠান তৃণমূল নেত্রী। ফলে এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে অনেকেই মনে করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী হিসেবে অখিল গিরিকেই দাঁড় করাতে চলেছেন।
উপনির্বাচন নিয়ে মমতার সঙ্গে আলোচনা
অখিল গিরি জানিয়েছেন, প্রায় তিন দিন আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর ফোনে কথা হয়েছিল। সেই সময় উপনির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁর মতামত জানতে চাওয়া হয়। তিনি নিজের বক্তব্য তৃণমূল নেত্রীকে খোলাখুলি জানান। পরে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমেও দলকে কিছু পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। এর পরেই শুক্রবার ফের তাঁর সঙ্গে ফোনে কথা হয় মমতার। শনিবার কালীঘাটের বাড়িতে তাঁকে ডেকে পাঠানো হয়।
প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে কী বললেন অখিল?
তবে নন্দীগ্রামে অখিল গিরিই যে প্রার্থী হবেন, এখনও পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে এমন কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে অখিলের বক্তব্য, তিনি দলের অনুগত কর্মী এবং দল যে দায়িত্ব দেবে, সেটিই পালন করবেন। প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিদ্ধান্তের উপরই তাঁর সম্পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তাঁর মতে, প্রার্থী নির্বাচনে দলনেত্রীর নিজের পছন্দকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে নন্দীগ্রামের মতো জায়গায় স্থানীয় প্রার্থীকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি।
আরও পড়ুন: “হ্যাঁ, আমি টাকা নিয়েছি” বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৃণমূলের দুই শিবিরের মধ্যে জোড়াফুল প্রতীক এবং দলের তহবিলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বেশ বড় আকারের বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই বিষয়েই শনিবার কালীঘাট তৃণমূল এবং ঋতব্রত তৃণমূল, দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছে নির্বাচন কমিশন। এখন কমিশনের সিদ্ধান্তের দিকেই লক্ষ্য রাজনৈতিক মহলের। এই পরিস্থিতিতে উপনির্বাচনের আগে তৃণমূলের প্রতীক-সংক্রান্ত জটিলতা মিটবে কিনা, তা নিয়েও যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। অন্যদিকে ঋতব্রত শিবির জানিয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে নন্দীগ্রাম থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে তারা সেখানে প্রার্থী দেবে না। সেজন্যই কালীঘাট তৃণমূল নন্দীগ্রামে অন্য প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে।