অনন্যা সরকার, নয়াদিল্লি: সিবিএসই (CBSE) বোর্ডে নবম শ্রেণিতে বাধ্যতামূলক তৃতীয় ভাষা (3-Language Policy) চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। এরই মাঝে ফের কড়া মন্তব্য করেছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। বৃহস্পতিবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে দেশের শীর্ষ আদালত কেন্দ্র সরকারকে মৌখিকভাবে জানায় যে, নবম শ্রেণিতে নতুন করে তৃতীয় ভাষা চালু করা অনুচিত। সুপ্রিম কোর্টের মতে, বোর্ড পরীক্ষার প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের কাঁধে অতিরিক্ত ভাষার চাপ তৈরি করা ঠিক নয়। জীবনের প্রথম বোর্ড পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে এমনিতেই চাপে থাকে নবম শ্রেণির পড়ুয়ারা, সেখানে আবার একটা ভাষা তাঁদের কাছে বোঝার সামিল হবে।
সিবিএসই-এর নবম শ্রেণির পাঠক্রমে তৃতীয় ভাষা জোড়ার বিপক্ষে শীর্ষ আদালত
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আর মহাদেবন এবং বিচারপতি বি ভি নাগরত্না-এর ডিভিশন মনে করছেন, যদি তৃতীয় ভাষা চালু করতেই হয়, তাহলে তা পঞ্চম বা ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই শুরু করা বেশি যৌক্তিক। ছোট শিশুদের জন্য নতুন ভাষা শেখা তুলনামূলকভাবে সহজ, কিন্তু নবম শ্রেণিতে এসে শিক্ষার্থীদের কাঁধে অতিরিক্ত ভাষার বোঝা চাপানো সঠিক নয় বলেই মত শীর্ষ আদালতের।
শুনানি চলাকালীন বিচারপতিরা জানান, নবম শ্রেণি থেকেই ছাত্রছাত্রীদের দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করে দিতে হয়। এই সময়েই নতুন একটি ভাষা বাধ্যতামূলক করলে তাদের ওপর পড়াশোনার চাপ অনেকটাই বাড়বে। বিচারপতি নাগারত্না বলেন, বোর্ড পরীক্ষার প্রস্তুতির কারণে পড়ুয়ারা এমনিতেই অনেক চাপের মধ্যে রয়েছে, বাড়তি চাপ দেওয়ার দরকার নেই। তিনি সরকারকে প্রশ্ন করেন, যেখানে অষ্টম শ্রেণির শেষ থেকেই চাপ শুরু হয়ে যায়, সেখানে নবম শ্রেণিতে কেন নতুন ভাষা আনা হচ্ছে? এটা যত নীচু শ্রেণিতে আনা যায় ততই ভালো। আদালতের পর্যবেক্ষণে জানানো হয়, ভাষাশিক্ষার উদ্যোগ প্রসংশার দাবি রাখলেও, এটির বাস্তবায়নের সময় ও পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ।
বিতর্কের সূত্রপাত কোথায়?
জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP) ২০২০ অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে সিবিএসই নবম শ্রেণিতে ‘থ্রি-ল্যাংগুয়েজ পলিসি’ কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেয়। নয়া পলিসি অনুযায়ী, নবম শ্রেণির পড়ুয়াদের পাঠক্রমে তিনটি ভাষা যুক্ত করা হবে, যার মধ্যে অন্তত দু’টি ভাষা বাধ্যতামূলকভাবে ভারতীয় হতে হবে। বর্তমানে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য তৃতীয় ভাষা চালু করার নীতি নিয়ে আদালতে একাধিক আবেদন দায়ের হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ বিনা হিটারেও উষ্ণ ঘর, জলবিহীন টয়লেট! লাদাখে সোনম ওয়াংচুকের অভিনব অট্টালিকা
এই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট আগেই কেন্দ্র সরকার, সিবিএসই এবং এনসিইআরটি (NCERT)-র কাছে জবাব তলব করেছিল। তবে বৃহস্পতিবারের শুনানিতে আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, শিক্ষার্থীদের স্বার্থকেই সব থেকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া দরকার। নতুন ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার আগে তার প্রভাব কি হবে, তা বিচার করে দেখা উচিত। পরবর্তী শুনানিতে কেন্দ্র তাদের অবস্থান স্পষ্ট করবে বলে জানা গেছে।