প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: এবার ডিম থেরাপির মুখে পড়লেন বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখ (Kajal Sheikh)। যদিও বাকিদের মতন তাঁকে সরাসরি ডিম (Egg) ছোড়া হয়নি কিন্তু তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিজেপি কর্মী, সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এদিন নানুরের (Nanur) বিধায়ক বিধানচন্দ্র মাঝিও ডিম হামলার শিকার হয়েছেন। পাশাপাশি উঠল চোর চোর স্লোগান। পুলিশের তৎপরতায় কোনোরকমে ঘটনাস্থল থেকে বেরিয়ে এলেন তিনি।
ডিম ছোড়া হল কাজল শেখকে
ভোটে ভরাডুবির পর থেকেই তৃণমূল নেতাদের উপর একের পর এক চলছে ‘ডিম থেরাপি’। রাস্তায় বেরোলেই শুনতে হচ্ছে চোর চোর স্লোগান। কিছুদিন আগেই কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে ডিম হামলার শিকার হয়েছিলেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। যা নিয়ে কম রাজনৈতিক বিতর্ক হয়নি। আর এবার এই ডিম থেরাপির শিকার হলেন কাজল শেখও। আজ দুপুরে হাসন বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়কের গাড়ি লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছে ডিম। পাশাপাশি ক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মী এবং সমর্থকদের তরফে উঠল চোর চোর স্লোগান। এলাকায় সাময়িক উত্তেজনা ছড়ায়। যদিও তৎক্ষনাৎ বীরভূম জেলা পুলিস ও নানুর থানার পুলিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
দীর্ঘদিন পর নানুরে ফিরতেই ডিম থেরাপির কবলে কাজল শেখ pic.twitter.com/niz2EZmh3y
— SinghVahini 🚩 (@Singhis_kingg) July 27, 2026
কী বলছেন বিধায়ক?
পরিকল্পিতভাবে এই ডিম ছোড়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ কাজল শেখ। তিনি ডিম হামলাকারীদের ‘সমাজবিরোধী’ বলে চিহ্নিত করে জানিয়েছেন, ‘‘আমি এখানকার জনপ্রতিনিধি। বরাবর নানুর দিবসে এখানে এসে শহিদদের শ্রদ্ধা জানিয়ে আসছি। আজও এর অন্যথা হয়নি। কিন্তু আজ আমি এখানে পৌঁছনোর পর আমার গাড়ি লক্ষ্য করে কয়েকজন সমাজবিরোধী ডিম ছুড়েছে। তবে পুলিশকে অনেক ধন্যবাদ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য। যারা এই কাজ করেছে, তাদের আমি বলতে চাই, এটা বাংলার কৃষ্টি-কালচার নয়। আমার পুলিশের কাছে অনুরোধ তাঁদের যেন কঠোরতম শাস্তি হয়।”
আরও পড়ুন: “সব রেকর্ড ভেঙে দিতে পারে!” তবে এই একটা ক্ষেত্রে বৈভবকে নজর দেওয়ার পরামর্শ লক্ষ্মণের
প্রসঙ্গত, তৃণমূল কংগ্রেসের হাত থেকে ক্ষমতা সরতেই বড় বড় নেতা মন্ত্রীদের প্রতি সাধারণ জনগণের ক্ষোভ ধীরে ধীরে প্রকাশ হতে থাকে। শুরুটা হয়েছিল তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকে। এরপর একে একে সব্যসাচী দত্ত সহ একাধিক দাপুটে তৃণমূল নেতা বিধায়কদের উপর ডিম থেরাপি হয়েছিল। অর্থাৎ গত ১৫ বছর ধরে যাঁদের ইশারা ছাড়া গাছের একটি পাতাও নড়ত না, তাঁদের বর্তমান অবস্থা খুবই শোচনীয় হয়ে উঠছে। যদিও বিরোধীদের দাবি এর পিছনে বিজেপির কারসাজি রয়েছে।