নীল জল, লাল কাঁকড়ার মেলা! দিঘা-পুরী ভুলে ঘুরে আসুন কাছের এই সমুদ্র সৈকত থেকে

সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ তাপমাত্রা উর্ধ্বমুখী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের মন চাইছে ছুটি। বাঙালিদের বেরানো মানেই চির পরিচিত সেই চেনা ‘দিপুদা’। যাদের পাহাড় পছন্দ তারা যান দার্জিলিং, আর যাদের পছন্দ সমুদ্র তারা যান দিঘা কিংবা পুরী। পরিবর্তনের যুগে পছন্দ বদলেছে মানুষের। দিঘা, পুরী দার্জিলিং ছাড়িয়ে মন চাইছে অন্য কোথাও। সেক্ষেত্রে আপনারা যেতেই পারেন এই অফবিট সমুদ্র সৈকতে (Offbeat Sea Beach)। দেখা হবে নতুন জায়গা, খরচও হবে কম। হবে মনের মানুষের সঙ্গে দিন কয়েকের সুখের দিনযাপন। আজ কথা হচ্ছে এমন এক অফবিট সমুদ্র সৈকত সম্পর্কে যেটি সম্পর্কে হয়তো খুব মানুষই আছেন জানেন। গুনে গুনে টেক্কা দিতে পারে দিঘা কিংবা দার্জিলিং-কে।

দিঘা, পুরী ভুলে ঘুরে আসুন ‘পরিখী’

আজ কথা হচ্ছে কলকাতা থেকে মাত্র কয়েক ঘণ্টা দূরে থাকা পরিখী সমুদ্র সৈকত নিয়ে। যেখানে গেলে আপনি সমুদ্রের সঙ্গে প্রকৃতির সুন্দর মেলবন্ধন কাকে বলে তা দেখতে পারবেন। সেইসঙ্গে সমুদ্র সৈকতে ছড়িয়ে থাকা সারি সারি লাল কাঁকড়া দেখতে পাবেন। স্ট্রেস কাকে বলে, গরম কাকে বলে একদম ভুলে যাবেন। এই পরিখী সমুদ্র সৈকতটি হল পর্যটনের ভাষায় একদম ‘ভার্জিন’ সৈকত। দূর দূর অবধি কেউ দেখার নেই আপনাকে। নীল জলরাশির পাশে আপনি এখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা হেঁটে বেড়াতে পারেন। সময় কাটাতে পারেন মনের মানুষের সঙ্গে। সেইসঙ্গে কিছু লোভনীয় সুস্বাদু খাবার তো আছেই।

ওড়িশার বালাসোরে রয়েছে এই পরিখী। দিঘা, পুরী গেলে এই গরমে আপনি যে ভিড় দেখতে পারবেন, সেটা এই পরিখীতে মোটেও পাবেন না। নির্জনতা কাকে বলে তা আপনি এখানে এলে আরও ভালোভাবে বুঝতে পারবেন। এখানে সৈকত সংলগ্ন ঝাউবনের সারি এবং ক্যাসুয়ারিনা গাছের ভিড় এলাকাটিকে এক স্নিগ্ধ শীতলতা দেয়। এখানে থাকার জন্য আপনি অনেক হোটেল ও রিসোর্ট পেয়ে যাবেন।

কী কী দেখবেন?

এমনিতে ঘুরতে গিয়ে অনেকেই আছেন যারা কোথাও না গিয়ে শুধুমাত্র সমুদ্র সৈকতের ধারে বসেই সময় কাটিয়ে দিতে চান। কিন্তু আপনারও যদি এই পরিখীতে এসে কিছু সাইটসিইং করতে ইচ্ছা হয়ে থাকে তাহলে ঘুরে আসতে পারেন ওড়িশার বিখ্যাত চাঁদিপুর সমুদ্র সৈকত। পরিখী থেকে খুব কাছেই রয়েছে চাঁদিপুর। এছাড়া চাইলে আপনি স্থানীয় মৎস্যজীবীদের গ্রাম ঘুরে দেখতে পারেন এবং তাঁদের জীবনযাত্রার সঙ্গে পরিচিত হতে পারেন।

আরও পড়ুনঃ তাপপ্রবাহের মাঝেই দক্ষিণবঙ্গের ৬ জেলায় ঝেঁপে বৃষ্টি, কালবৈশাখী, আজকের আবহাওয়া

কীভাবে যাবেন পরিখী?

এবার জেনে নেওয়া যাক কলকাতা থেকে আপনি কীভাবে সহজেই এই পরিখীতে পৌঁছাবেন। হাওড়া বা শিয়ালদহ থেকে যে কোনও চেন্নাই বা পুরীগামী ট্রেনে চেপে বালাসোর স্টেশনে নামতে হবে। স্টেশন থেকে গাড়ি বা অটোয় মাত্র ৩০-৪০ মিনিটে পৌঁছে যাওয়া যায় পরিখী। এছাড়া সড়কপথেও যেতে পারেন। কলকাতা থেকে সড়কপথে এর দূরত্ব প্রায় ২৫০ কিলোমিটার। খড়গপুর হয়ে বালাসোর যাওয়ার জাতীয় সড়ক ধরে অনায়াসেই এখানে পৌঁছে যেতে পারেন আপনি।

Leave a Comment