সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: মহান বিপ্লবী নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে প্রকাশ্যে অপমান করেছেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজ (Ananta Maharaj)। ইতিমধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে এই মুহূর্তে সবথেকে বড় খবর, পূর্বতন সরকার তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া অনন্ত মহারাজের ‘বঙ্গবিভূষণ’ পুরস্কার ফিরিয়ে নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার।
অনন্ত মহারাজের পুরস্কার ফেরাল রাজ্য সরকার
বিগত বেশ কয়েকদিন ধরেই সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে বাংলার রাজনীতিতে একটাই স্বর, বিজেপি রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজ নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে অপমান করছেন। এমনকি একবার দু’বার নয়। বরং একের পর এক অপমানজনক মন্তব্য করে চলেছেন তিনি। সেই কারণেই এবার এই বড়সড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার পথে হাঁটল নবান্ন। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী গতকাল নিজেই জানিয়েছিলেন, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে অপমান করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করলে আর ছাড় দেওয়া হবে না। এমনকি পোস্ট ডিলিট করলেও তাঁর বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আসলে নেতাজিকে অপমান করার পর সাবধান করা হয়েছিল অনন্ত মহারাজকে। কিন্তু তিনি না শুধরিয়ে ফের বিভিন্ন জায়গায় কুরুচিকর মন্তব্য চালিয়ে যেতে থাকেন। এমনকি তিনি নিজেই জানিয়েছেন, “আমি কাউকে নিয়ে খারাপ কোনও কথা বলিনি। আমি শুধুমাত্র ঐতিহাসিক তথ্য সকলের সামনে তুলে ধরেছি। যে সময়ের কথা বলেছি সেই সময় আমার জন্ম হয়নি।” তবে নেতাজিকে অপমান মানতে নারাজ বঙ্গবাসী। একাধিক থানায় তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে এফআইআর। আর গতকালই তাঁকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
আরও পড়ুন: খাস কলকাতায় ভাঙা হল নেতাজির মূর্তি, কারা করল? তদন্তে নামল পুলিশ
জানিয়ে রাখি, ভরা জনসভায় অনন্ত মহারাজ দাবি করেছিলেন, নেতাজির নাকি আজাদ হিন্দ ফৌজ তৈরি করার ক্ষমতা ছিল না। জার্মানি ব্রিটিশ সৈন্যদেরকে বন্দী করে নিয়ে গিয়েছিল। আর সেই বন্দীদেরকে নেতাজির হাতে তুলে দেয় জার্মানি। নেতাজি সেটির অবব্যবহার করে আজাদ হিন্দ ফৌজ তৈরি করেছিল। এতে তাঁর নাকি নিজস্ব কোনও ভূমিকা ছিল না। এমনকি সবথেকে বড় ব্যাপার, তিনি হলফনামাতে যে শিক্ষাগত যোগ্যতা জমা দিয়েছিলেন তাও সম্পূর্ণ ভুয়ো। সেই কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে কড়া অ্যাকশন নেওয়ার নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর।