অনন্যা সরকার, হরিয়ানা: কথায় বলে, যারা চেষ্টা করে যায়, তাঁদের কখনও হার হয় না। হরিয়ানার জিন্দ জেলার এক সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা বিকাশ কুণ্ডুর (UPSC Success Story of IAS Vikas Kundu) জীবন যেন এই কথারই জলজ্যান্ত প্রমাণ। একটা সময় বারবার ব্যর্থতার সম্মুখীন হওয়া বিকাশকে সমাজ বলত, “তোমার ভাগ্যে আইএএস (IAS) হওয়া নেই, হাল ছেড়ে দাও”। কেউ কেউ সাধারণ গ্রুপ ‘সি’ বা ‘ডি’ সরকারি চাকরি নিয়ে সন্তুষ্ট থাকার কথা বলে বারবার তাঁর মনোবল ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করত। সেই উপহাসগুলোই তাঁর সংকল্পকে আরও দৃঢ় করে তোলে। তিনি ২০২৫ সালের ইউপিএসসি (UPSC) পরীক্ষায় ২৭ তম স্থান অধিকার করে একজন আইএএস অফিসার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করেছেন। আসুন তাহলে বিকাশ কুণ্ডুর এই সাফল্যের কাহিনীটি জেনে নেওয়া যাক।
সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা বিকাশের UPSC ক্র্যাক করার লড়াই
হরিয়ানার জিন্দ জেলার বিল লুকহেরা গ্রামের বাসিন্দা বিকাশ ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ছাত্র ছিলেন। স্কুল শিক্ষা ও স্নাতক সম্পন্ন করার পর তিনি উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা হওয়ার লক্ষ্য স্থির করেন। ২০২০ সালে তিনি ইউপিএসসি (UPSC)-এর প্রস্তুতি শুরু করেন। প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ব্যর্থতা, প্রবন্ধ পরীক্ষায় কম নম্বর পাওয়া এবং সিএসএটি (CSAT)-এ অল্পের জন্য সুযোগ হারানো – এসব কিছুই তাকে মানসিকভাবে হতাশ করে দিয়েছিল।
প্রচণ্ড মানসিক চাপের কারণে মেইনস-এর প্রস্তুতি নেওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়েছিল। বারবার ইন্টারভিউতে ব্যর্থ হওয়া তার মানসিক অবস্থার ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। এমনকি বিকাশের জীবনে এমন এক পর্যায় এসেছিল, যে সময় তিনি কারো সাথে কথা বলার আগ্রহ পর্যন্ত পেতেন না।
আরও পড়ুন: সৈকত বাঁচাতে একাই লড়াইয়ে! মন্দারমণির ১৩ কিমি উপকূল প্লাস্টিকমুক্ত করার উদ্যোগ শিক্ষকের
কিন্তু বারংবার ব্যর্থ হওয়া সত্ত্বেও, তিনি হাল ছাড়েননি। নিষ্ঠার সাথে নিজের ভুলগুলো বিশ্লেষণ করেন ও প্রস্তুতির কৌশলে পরিবর্তন আনেন। চারবার ব্যর্থতার পর ২০২৪ সালে তিনি ২৮৮তম র্যাঙ্ক অর্জন করে ইন্ডিয়ান পুলিশ সার্ভিস (IPS)-এ যোগ দেন। পরিবার-পরিজনেরা তাঁকে এতেই সন্তুষ্ট থাকতে বলেছিলেন, কিন্তু তাঁর প্রবল ইচ্ছা ছিল ইন্ডিয়ান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসে (IAS) যোগ দেওয়ার। তাই ২০২৫ সালের পরীক্ষার জন্য পুনরায় প্রস্তুতি শুরু করেন। সে বছর প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ঠিক আগে পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে দাঁড়িয়ে বিকাশ নিজেকে বলেছিলেন, “আমি ৯৯.৯% নিশ্চিত যে আমি ব্যর্থ হব, কিন্তু যদি হারতেই হয়, তবে লড়াই করে হারব।”
তার সেই অদম্য সংকল্পই শেষ পর্যন্ত সাফল্যের মুখ দেখলো। ২০২৫ সালে তিনি সর্বভারতীয় পর্যায়ে ২৭তম স্থান অর্জন করেন ও একজন আইএএস (IAS) কর্মকর্তা হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করেন। তার এই যাত্রা প্রমাণ করে যে, যদি সংকল্প অটল থাকে, তবে কোনো বাধাই স্বপ্ন পূরণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।