পশ্চিমবঙ্গে আন্দামানের অনুভূতি! ঘুরে আসুন ইতিহাস জর্জরিত কাছের এই অচেনা সি বিচ থেকে

অনন্যা সরকার, কলকাতা: রাজ্যে কাছাকাছির মধ্যে সমুদ্র সৈকত বললে প্রথমেই মাথায় আসে দিঘা না মন্দারমণির কথা। এই জায়গাগুলি পর্যটকদের ভীষণ প্রিয়, ফলে সারাক্ষণ লোক সমাগম লেগেই রয়েছে। কিন্তু আপনি যদি নির্জনতার খোঁজে থাকেন, তাহলে রাজ্যেই আছে এমন একটি অফবিট সমুদ্র সৈকত (Offbeat Sea Beach), যা পশ্চিমবঙ্গেও আপনাকে দেবে আন্দামানের অনুভূতি। কথা হচ্ছে পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরির সমুদ্র সৈকত নিয়ে (Khejuri Sea Beach)। এই সেই খেজুরি, যার সাথে জড়িয়ে রয়েছে রাজা রামমোহন রায়, প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের স্মৃতি। খেজুরির নির্জন সমুদ্রের সৈকতের চিকচিকে বালিয়াড়ি আর ইতিহাসের হাতছানি উপেক্ষা করতে পারবেন না, ফিরে যেতে মন চাইবে বারংবার। 

খেজুরির সমুদ্র সৈকতের আকর্ষণ 

খেজুরিতে সবচেয়ে আগেই আপনার মন জুড়িয়ে দেবে বিস্তীর্ণ বালুকাবেলা, নীল সমুদ্র আর নিরিবিলি শান্ত পরিবেশ। জেলেদের মাছ ধরার নৌকা, উপকূলের গ্রামীণ জীবন দেখতে দেখতে যখন হেঁটে যাবেন সমুদ্রতীর ধরে তখন মনে এই সৈকত যেন আপনার জন্য অপেক্ষা করছিল। হুগলি নদীর মোহনায় বসে বালিয়াড়ি দেখতে দেখতে কেটে যাবে অনেকটা সময়। এছাড়া, অদুরেই চোখে পড়বে ভারতের সবচেয়ে পুরোনো ডাকঘরের ধ্বংসাবশেষ। ইতিহাসের পাতা ওল্টালে দেখতে পাবেন ১৮৩০ সালে রাজা রামমোহন রায় রাত্রিযাপন করছেন প্রাচীন এই ডাকঘরে। 

আরও পড়ুন: মনোরম জলপ্রতাপ আর বনভূমিতে ঘেরা এক শান্তির আশ্রয়, বর্ষায় ঘুরে আসুন ওড়িশার খান্ডাধার

খেজুরিতে গেলে অবশ্যই দেখে আসবেন সেই বিখ্যাত কপালকুণ্ডলার মন্দির। তার সাথে রয়েছে অতি প্রাচীন লাইট হাউসও। খেজুরির প্রাচীন বন্দরটিও একটি দ্রষ্টব্য স্থান। শীতকালে গেলে খেজুরির সমুদ্র সৈকতে দেখতে পাবেন পরিযায়ী পাখির মেলা। তাই এক দু’দিনের ছুটি কাটাতে শান্ত ও ইতিহাস বিজরিত এই সমুদ্র সৈকতে একবার ঢুঁ মারতেই পারেন। 

আরও পড়ুন: প্রাকৃতিক ও জীব বৈচিত্র্যে ভরপুর সেঁওয়াতি, পুরুলিয়ায় গড়ে উঠবে নতুন পর্যটন কেন্দ্র

কীভাবে যাবেন, কোথায় থাকবেন?

কলকাতা থেকে খেজুরির দূরত্ব প্রায় ১৩০ কিলোমিটার। রেল ও সড়ক – উভয়পথে সহজেই পৌঁছে যেতে পারেন এই উপকূলবর্তী ঐতিহাসিক স্পটে। কলকাতা থেকে সরাসরি হেঁড়িয়াগামী বাস ধরে, সেখান থেকে খেজুরি যাওয়ার রাস্তা নিলেই পৌঁছে যাবেন সমুদ্র সৈকতে। রেলপথে যেতে চাইলে, হাওড়া থেকে দিঘাগামী বা লোকাল ট্রেনে হেঁড়িয়া স্টেশনে নামতে হবে, তারপর ৩০ কিলোমিটারের রাস্তা সড়কপথে গেলেই পৌঁছে যাওয়া যাবে। থাকার জন্য, খেজুরি বাজার ও হেঁড়িয়া অঞ্চলে সাশ্রয়ী লজ বা গেস্ট হাউস মিলবে। তবে পরিবারের সাথে গেলে আগে থেকে বুক করে যাওয়া ভালো। কিছু হোম স্টেও পেয়ে যাবেন, নিরিবিলি চাইলে এগুলি বেছে নিতে পারেন। 

Leave a Comment