সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পাকিস্তান ভিত্তিক সন্ত্রাসী সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের (Jaish-e-Mohammed) প্রধান মাওলানা মাসুদ আজহারের পরিবারে ফের শোকের ছায়া। সূত্রের খবর, রহস্যজনক ভাবে মৃত্যু হল মাসুদের বড় ভাই মহাম্মদ তাহির আনোয়ারের (Tahir Anwar)। সোমবার গভীর রাতে পাকিস্তানের বাহাওয়ালপুরে গোপনীয়তার সঙ্গে তাঁকে দাফন করা হয়েছে বলে খবর। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর কারণ নিয়ে এখনও পর্যন্ত জঙ্গি সংগঠন বা পাকিস্তান সরকার (Pakistan) কেউই মুখ খোলেনি।
কে ছিলেন এই তাহির আনোয়ার?
বেশ কিছু রিপোর্ট অনুযায়ী জানা যায়, তাহির আনোয়ার ছিলেন জইশ প্রধান মাসুদ আজহারের পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে বড় ভাই। তিনি পর্দার আড়ালে থেকেই সংগঠনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলাতেন। জইশ-ই-মহম্মদের পক্ষ থেকে জারি করা শোকবার্তায় তাঁকে সিনিয়র নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সবথেকে বড় ব্যাপার, সংগঠনের প্রচারে এবং বিভিন্ন কার্যকলাপে তিনি দীর্ঘ বছর ধরেই সক্রিয় ছিলেন, এবং সাধারণ মানুষকে জঙ্গি প্রশিক্ষণ দিতেন।
এদিকে তাহির আনোয়ারের মৃত্যুর খবরটি জইশ-ই-মহম্মদের আনুষ্ঠানিক চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে। কিন্তু কীভাবে তিনি মারা গেলেন তা নিয়ে এখনো পর্যন্ত ধোঁয়াশা রয়েছে। তাঁর মৃত্যুর জন্য কোনও দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা বা দুর্ঘটনা দায়ী রয়েছে কিনা সে বিষয়ে এখনো কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি। এদিকে সোমবার গভীর রাতে বাহাওয়ালপুরে জামিমা মসজিদ উসমান ওয়ালির কাছে তাঁকে তড়িঘড়ি দাফন করা হয়। আর এই গোপনীয়তাই সন্দেহের দানা বাঁধাচ্ছে। এমনকি সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পাকিস্তানে ভারত বিরোধী একাধিক সন্ত্রাসী নেতার রহস্য মৃত্যু হয়েছে। সেই সূত্রে তাহির আনোয়ারও ঠিক কোনও অজ্ঞাত পরিচয়ের ঘাতকের হামলার শিকার হয়েছেন কিনা তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরে মাসুদ আজহারের পরিবারে একের পর এক ধাক্কা লাগছে। ভারতের গোয়েন্দা সূত্র এবং বেশ কিছু রেকর্ডিং অনুযায়ী, অপারেশন সিঁদুরের সময় বাহাওয়ালপুরের এক বিমান হামলায় মাসুদের পরিবারের অন্তত দশজন সদস্য নিকেশ হয়েছিল। সেই তালিকায় মাসুদের বোন এবং ভাগ্নেরাও ছিল। এরপর তাঁর বড় ভাইয়ের মৃত্যু মাসুদের জন্য যে বিরাট ধাক্কা তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
আরও পড়ুন: ফের সোনা-রুপোর দামে বড় পরিবর্তন আজ
বলাবাহুল্য, পাকিস্তান থেকে পরিচালিত এই জঙ্গি সংগঠন অর্থাৎ জইশ-ই-মহম্মদ ভারতের জন্য সবথেকে বড় মাথা ব্যাথার কারণ। ২০০১ সালের সংসদ হামলা থেকে শুরু করে ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলা, এমনকি ২০১৬ সালের পাঠানকোট বা ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার মতো ভয়াবহ নাশকতার সঙ্গে এই জইশ-ই-মহম্মদেরই হাত ছিল। সংগঠনের প্রধান মাসুদ আজহার ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকার শীর্ষে থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে তিনি জনসম্মুখে আসেন না। তাঁর বর্তমান অবস্থান এবং স্বাস্থ্য নিয়ে নানারকম গুজব ছড়ালেও ভাইদের মাধ্যমে তিনি সংগঠন চালিয়ে যাচ্ছিলেন বলেই খবর।