সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ বিরাট বিপাকে দেশের প্রথম সারির ব্যাঙ্ক পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক (Punjab National Bank)। ব্যাঙ্কের ভেতরে এত বড় দুর্নীতি হয়ে গেল, আর সেটা কেউ টেরও পেল না, সেটাই অবাক করে দিয়েছে সকলকে। কোটি কোটি নকল টাকা উদ্ধার হল পিএনবি শাখার ভেতর থেকে। ব্যাঙ্কের ভল্টে (PNB Vault) মিলল ৭.৪ কোটি টাকার নকল নোট! শুনে চমকে গেলেন তো? কিন্তু এটাই সত্যি।
পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক থেকে উদ্ধার ৭.৪ কোটি টাকার জাল নোট!
জানা গিয়েছে, উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুরে এই ঘটনাটি ঘটেছে। সোফিয়া মার্কেটে পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের একটি শাখার কারেন্সি চেস্ট নিরীক্ষায় ৭.৪ কোটি টাকার জাল নোট উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় জেলা তথা দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তদন্তে তিন কর্মকর্তার ভূমিকা প্রকাশ পাওয়ায় তাদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
Money Heist Saharanpur!
PNB Vault hit by Rs 7.4 crore fake note swap!
Genuine currency worth ₹7.4 crores was replaced with counterfeits at the Punjab National Bank money chest in Saharanpur of district Uttar Pradesh. An FIR against officials including senior divisional…
— Piyush Rai (@Benarasiyaa) September 1, 2026
ব্যাংক কর্মকর্তাদের তদন্তের পাশাপাশি পুলিশও তদন্ত করছে। তদন্তে উঠে এসেছে, কিছুদিন আগে কর্মী বিশাল কুমারকে কারেন্সি চেস্টে ১১.৫ কোটি টাকার নোট গোছানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ছেঁড়া, ফাটা এবং অন্যান্য নোটও ছিল। সেখান থেকে এই নোটগুলো ৫ই আগস্ট জয়পুরে পাঠানো হয়। জয়পুরের সিন্দুকে থাকা টাকা গণনা করার পর তারা দেখতে পান যে ৪৩০,৯০০ টাকা কম রয়েছে। পিএনবি মিরাট জোনাল হেড অজয় কুমার তিবরেওয়ালকে বিষয়টি জানানো হয়। বিষয়টি তদন্ত করার জন্য চিফ ম্যানেজার অরুণ কুমার চৌবেকে মিরাট থেকে সাহারানপুরে পাঠানো হয়। তদন্তে জানা যায় যে কর্মী বিশাল নোটের বান্ডিলগুলো থেকে নোটগুলো সরিয়ে ফেলেছিল।
সিসিটিভি ফুটেজে চাঞ্চল্য
সিসিটিভিতে বিশালকে নোটগুলো তুলতে দেখা যায়। ৯ই আগস্ট শুরু হওয়া একটি পরীক্ষায় উঠে আসে যে, ব্যাঙ্কটিতে ৭.৪ কোটি টাকা মূল্যের জাল মুদ্রা রাখা ছিল। জিজ্ঞাসাবাদের সময় সিনিয়র ডিভিশনাল ম্যানেজার রবি কুমার কানসে, কারেন্সি চেস্ট ম্যানেজার সুশীল কুমার এবং জগাধরি (হরিয়ানা)-র বর্তমান কারেন্সি চেস্ট ম্যানেজার অমিত কুমার সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি। এই তিন ম্যানেজারের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের হয়। কারেন্সি চেস্টে পিএনবি-র বিভিন্ন শাখা থেকে নগদ অর্থ জমা হয়। বর্তমানে কারেন্সি চেস্টের নিরীক্ষা চলছে। সন্দেহজনক লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট নথিগুলো বর্তমানে ব্যাংক পর্যায়ে তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষ হলেই স্পষ্ট হবে যে এর সাথে কতগুলো জাল নোট জড়িত এবং বিষয়টি কতটা ব্যাপক।
আরও পড়ুনঃ বন্ধ হয়ে যাবে নির্দিষ্ট সরকারি কর্মীদের পেনশন? উদ্বেগ বাড়ল অবসরপ্রাপ্তদের
পিএনবি-র বিভাগীয় কার্যালয়ের সিনিয়র ম্যানেজার নিশা সিং বলেছেন যে, নিরীক্ষার সময় পরিদর্শক দল নোটের বান্ডিলগুলো পরীক্ষা করে দেখে যে, একটি আসল নোট উপরে এবং অন্যটি নিচে রাখা ছিল। ব্যাংক কর্মকর্তারা বিষয়টি তদন্ত করছেন। কারেন্সি চেস্ট থেকে আরও জাল নোট উদ্ধার হতে পারে বলে আশঙ্কা।