বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: দক্ষিণ এশিয়ায় (South Asia) বড়সড় বিপর্যয় এড়াতে চাইলে আলোচনায় বসুক ভারত, এমনটাই দাবি পাকিস্তানের (Pakistan On India)। সাম্প্রতিক সময়ে নানান অজুহাত দেখিয়ে ভারতকে হুমকি দিয়েছে পশ্চিমের দেশ। সে সিন্ধু জল বন্টন চুক্তি হোক কিংবা অন্য কিছু! সব ক্ষেত্রেই নরমে গরমে নানা ভাবে নয়া দিল্লিকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করেছে ইসলামাবাদ। তাতে অবশ্য কর্ণপাত করেনি ভারত। কিন্তু পাকিস্তান নিজের অভ্যাস বদলাতে পারেনি। নতুন করে ফের ভারতকে হুমকি দিল পশ্চিমের দেশ। এবার পাকিস্তানের ন্যাশনাল কমান্ড অথরটির উপদেষ্টা এবং স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানস ডিভিশনের প্রধান তথা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাজহার জামিল ভারতকে হুমকি দিয়ে বলেছেন, পারমাণবিক ধ্বংসযজ্ঞ এড়াতে চাইলে আলোচনায় বসু ভারত!
ফের ভারতকে হুমকি পাকিস্তানের
সম্প্রতি ইসলামাবাদের একটি কর্মশালায় অংশ নিয়ে ভাষণ দেওয়ার সময় পাকিস্তানের ওই প্রাক্তন লেফটেন্যান্ট জেনারেল স্পষ্ট করে বলেন, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর দুর্বলতা এবং হার্ড পাওয়ার বা সামরিক শক্তির উপর নির্ভরতা দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত স্থিতিশীলতার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওই পাকিস্তানি ভারতের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসন এবং আধিপত্যবাদী মানসিকতার অভিযোগ তুলে বলেন, “দুটি পারমাণবিক অস্ত্রধর দেশের মধ্যে যুদ্ধের কোনও সুযোগ আপাতত নেই।”
এদিন বক্তব্য রাখতে গিয়েই ভারতকে নিশানা করে মাজহার জামিল জানান, “যেকোনও বিবেকবান ব্যক্তির আছে একটা বিষয় খুব পরিষ্কার হওয়া উচিত, ভারতের উচ্চ পর্যায়ের সামরিক নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক নেতারা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নানান উস্কানিমূলক এবং প্ররোচনামূলক বিবৃতি দিয়ে আসছেন। বিশেষ করে গতবছর উত্তেজনার পর থেকে এই বিষয়টা বেশি দেখা যাচ্ছে।”
আরও পড়ুন: ভারতের এক সিদ্ধান্তে ১০ বিলিয়ন রুপির ক্ষতি হল নেপালের, রেহাই পেতে মরিয়া বালেন সরকার
এদিন ওই পাকিস্তানি কর্মকর্তা একেবারে খোলাখুলি হুমকি দিয়ে বলেন, “মে মাসে ভারতের সেনাপ্রধান যিনি এখন অবসরপ্রাপ্ত, পাকিস্তানকে অগ্রহণযোগ্য হুমকি দিয়েছিলেন। এই ধরনের ভাষা হয়তো কিছু ভোট এনে দিতে পারে, ভারতের অন্যতম চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলিকে তুষ্ট করতে পারে কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এতে ক্ষতি হবে। বর্তমানে দুই পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশের মধ্যে ব্যাপক অবিশ্বাস রয়েছে। তবে পারমাণবিক ধ্বংসযজ্ঞ থেকে এশিয়া মহাদেশকে বাঁচাতে উভয়পক্ষ, বিশেষ করে ভারতকে আলোচনার টেবিলে আসা উচিত। পুনরায় দু পক্ষের মধ্যে আলোচনা শুরু করা উচিত বলেই মনে করি।”