অনন্যা সরকার, কাকদ্বীপ: ইলিশ মাছ (Hilsa Fish) বাঙালির অতিপ্রিয় হলেও তা সহজলভ্য নয়। বর্ষার শুরুতে একপ্রকার প্রাণের ঝুঁকি নিয়েই মোহনায় ইলিশ মাছ (Ilish) ধরতে যান মৎস্যজীবীরা। তবে ইলিশ উৎপাদনকে (Hilsa Farming) সহজতর করার জন্য বেশ কিছুদিন ধরেই গবেষণা চালাচ্ছিলেন বিজ্ঞানীরা। কাকদ্বীপের (Kakdwip) মৎস্য গবেষণা কেন্দ্র, আইসিএআর-সিআইবিএ পুকুরে ইলিশ মাছ চাষের পঞ্চম ধাপে সফলতা পেয়েছে। শুরু হয়েছে গবেষণার ষষ্ঠ ও অন্তিম পর্যায়। এই ধাপটি সফলভাবে সম্পূর্ণ হলে যে কেউ নিজের ব্যক্তিগত জলাশয় বা পুকুরে অনায়াসেই করতে পারবেন ইলিশের চাষ, আর সেই ইলিশ বিক্রি হবে বাজারে বাজারে। সেখান থেকে আপনি ছিপ ফেলে ইলিশ ধরতেও পারবেন।
পুকুরেও সম্ভব হবে ইলিশের চাষ
দীর্ঘদিন ধরেই কাকদ্বীপের কেন্দ্রীয় নোনা জলজীব পালন অনুসন্ধান সংস্থা (Central Institute of Brackishwater Aquaculture/ ICAR-CIBA) পুকুরে ইলিশের চাষ নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছে। পঞ্চম পর্যায় পর্যন্ত তারা সাফল্য পেয়েছে। গবেষকরা জানাচ্ছেন, এখনো পর্যন্ত ৯৮২টি গ্রামের পুকুরে ইলিশ মাছ চাষ করা গেছে, তবে চূড়ান্ত সাফল্য আসবে তখনই যখন ডিম থেকে পোনা ফোটানো সম্ভব হবে। এবার এই প্রক্রিয়াতে সাফল্যের জন্য ষষ্ঠ ও শেষ ধাপের গবেষণার কাজ শুরু হয়েছে।
গবেষণার কাজে সাহায্যের জন্য গত শনিবার সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী দীপঙ্কর জানা আইসিএআর-সিআইবিএ-তে অত্যাধুনিক স্যালিনিটি গ্রেডিয়েন্ট রিসার্কুলেটরি অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেমের (RAS) উদ্বোধন করেছেন। এই নতুন প্রকল্পটির জন্য প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা ব্যয় করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ অনলাইনেই চেক করা যাচ্ছে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের স্ট্যাটাস, পোর্টালে যুক্ত হল নতুন অপশন
এই প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় নোনা জলজীব পালন অনুসন্ধান সংস্থার কাকদ্বীপ কেন্দ্রের প্রধান ডঃ দেবাশীষ দে জানিয়েছেন যে, শেষ পর্যায়ে বিভিন্ন পরিবেশগত পদ্ধতিকে কাজে লাগিয়ে গবেষণা চলছে। তিনটি পাতকুয়ায় তিন রকমের জল রাখা হয়েছে। বৈদ্যুতিক পাম্পের সাহায্যে সেই জলকে ঘূর্ণিজলে পরিণত করা হয়েছে। জলের তাপমাত্রা, স্রোত ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ করে ইলিশের পোনা ছাড়া হয়েছে। এই গবেষণায় পর্যবেক্ষণের জন্য এক বছরের মতো সময় লাগতে পারে বলে জানাচ্ছেন ডঃ দেবাশীষ দে।