সৌভিক মুখার্জী, গোসাবা: ফের সামনে এল আরেক তৃণমূল নেতার অপকর্ম। একসময় যে সামান্য ছাগল, মুরগি বিক্রি করে সংসার চালাত, এখন তাঁর ৩০ বিঘার উপর জমি, বিরাট বড় বাংলো, খামারবাড়ি আরও কত কিছু প্রপার্টি। আমরা বলছি গোসাবার (Gosaba) দাপুটে তৃণমূল নেতা সুবিদ আলি ঢালি ওরফে ঝোড়ো ঢালির কথা। এলাকার বাচ্চাদেরকে পণবন্দি করে রাখার পাশাপাশি সেই সমস্ত শিশুদের মায়েদের উপর পাশবিক নির্যাতন চালাত এই কুখ্যাত অপরাধী। সরকারের পালাবদলের পরেই সামনে এল তাঁর সেই অপকর্ম।
বিস্ফোরক অভিযোগ তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে
সূত্রের খবর, পাঠানখালির তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি থেকে গোসাবা ব্লক তৃণমূল অঞ্চলের সভাপতি হয়েছিলেন ঝোড়ো ঢালি। জমি দখল থেকে শুরু করে রাজনৈতিক দলের কর্মচারীদের অত্যাচারের মাধ্যমেই চলত তাঁর শাসন। এলাকার মহিলারা এবার তাঁর বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন এবং শিশুদের আটকে রাখার বিস্ফোরক অভিযোগ তুলল। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এক মহিলা বলেন, এলাকার বহু বাচ্ছাকে সে পণবন্দি করে রাখত। এমনকি সেই সমস্ত শিশুদের মায়েদেরকে বাংলাতে নিয়ে এসে নাচতে বাধ্য করত। এরপর তাঁদের ধর্ষণ পর্যন্ত করা হত। এমনকি একাধিক মহিলার সঙ্গে এরকম দুর্ব্যবহার করেছে সে। আর বাংলোতে যেতে না চাইলেই মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হত বলে অভিযোগ মহিলাদের।
আরও এক মহিলার অভিযোগ, এলাকায় সুন্দরী মহিলা দেখলেই সে প্রলোভন দেখাত। কাজ দেওয়ার নাম করে অত্যাচার করত মহিলাদের উপর। একজন বলেন, আমার ছেলেকে মার্ডার করবে বলে মাঠে নিয়ে চলে গিয়েছিল। কারোর কারোর মাথায় বন্দুক ধরা হত। এমনকি কোনও কোনও মহিলার স্বামীকে পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হত না। বেধড়ক মারধর করা হত। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের মধ্য দিয়েই ওই কুখ্যাত তৃণমূল নেতার বাড়িতে যেতে হত। আর সেখানেই প্রাসাদসম বাংলো বানিয়ে ফেলেছিল সে। বহু বাচ্চাদের সামনে রেখে মহিলাদের উপর অত্যাচার করেছে ওই তৃণমূলের নেতা। শুধুমাত্র বাচ্চাদের কথা ভেবে আর তাদের অস্তিত্ব বজায় রাখার কথা ভেবেই মুখ বুজে মহিলারা সব সহ্য করেছে।
আরও পড়ুন: মধ্যবিত্তদের চাপ দিয়ে ফের বাড়ল সোনা, রুপোর দাম! আজকের রেট
প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখি, এই কুখ্যাত তৃণমূল নেতা অর্থাৎ ঝোড়ো ঢালি আদতে শেখ শাহজাহানের সন্দেশখালি মডেল এলাকার গোসাবার তৃণমূল সভাপতি। শেখ শাহজাহানের সঙ্গে তাঁর ওঠাবসা ছিল প্রথম থেকেই। বহু আগেই গ্রেফতার হয়েছে শেখ শাহজাহান। কিন্তু এতদিন পর্যন্ত ক্ষমতার দুর্ব্যবহার করে শিশু এবং নারীদের উপর নির্যাতন করত এই তৃণমূলের নেতা। কিন্তু রাজ্যের সরকারের পালাবদলের পরেই মুখোশ খুলল তাঁর। এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, রাজ্য সরকার যেন তাঁর বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়।