পৃথিবীর সবচেয়ে দামি ‘মিয়াজাকি’ আমের ফলন হচ্ছে ভারতে, নজরদারিতে লেগেছে সিসিটিভি

অনন্যা সরকার, উত্তর প্রদেশ: পৃথিবীর সবচেয়ে দামি জাপানের মিয়াজাকি আম (Miyazaki Mango) উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুরে চাষ করে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন কৃষক সন্দীপ চৌধুরী (Sandeep Chaudhary)। এই প্রিমিয়াম জাপানি আমের প্রজাতিটি বাজারে প্রায় ৩ লক্ষ টাকা কিলো দরে বিক্রি হয়। মাত্র দুটি গাছ ও তিনটি আমের ফলন দিয়ে শুরু করে সন্দীপ চৌধুরী নিজেকে আজ একজন সফল আম চাষী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। আমের রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তার জন্য সন্দীপ চৌধুরীর বাগানে ২৪ ঘন্টা থাকে সিসিটিভির নজরদারি (CCTV Surveillance)। 

সিসিটিভির নজরদারিতে মিয়াজাকি আমের চাষ 

সাহারানপুরের থারৌলি গ্রামের বাসিন্দা সন্দীপ চৌধুরী ২০২১ সালে প্রথম মিয়াজাকি আমের দুটি চারা দিয়ে তার এই আম চাষের যাত্রা শুরু করেন। তার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল, পৃথিবীর অন্যতম দামি ও বিরল আমের প্রজাতিকে ভারতের মাটিতে ফলানো। সেই উদ্দেশ্যেই তিনি ভালোভাবে গাছ পরিচর্যায় মনোনিবেশ করেন। প্রথমে তার গাছে মাত্র তিনটি ফল ধরে। তবে বর্তমানে তার বাগানে এখন ৪০ টি মিয়াজাকি আমের গাছ রয়েছে। সন্দীপ চৌধুরী জানিয়েছেন, ৪০টির মধ্যে ১০ থেকে ১২টি গাছে ভালোভাবে ফলন হচ্ছে এই বিশেষ প্রজাতির আমের। 

মিয়াজাকি আম এত দামী কেন ?

মিয়াজাকি বিশ্বের সবচেয়ে দামি ও বিরল প্রজাতির আম। জাপানি ভাষায় একে বলে “তাইয়ো নো তামাগো” বা যার অর্থ “সূর্যের ডিম”। টকটকে লাল বা বেগুনি আভা যুক্ত এই আম দেখতে অনেকটা বড় ডিমের মতো। এর চাষের পদ্ধতি অত্যন্ত কঠিন। মুকুল আসার পর ৮০ শতাংশ মুকুলই ছেঁটে ফেলা হয় এবং প্রতিটি আমকে জালের সাহায্যে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়, যাতে ভালোভাবে সূর্যের আলো পায়। কঠিন চাষের পদ্ধতি ও অনন্য সুমিষ্ট স্বাদের জন্য এই আমগুলি অত্যন্ত চড়া দামে বিক্রি হয়, যা সাধারন মানুষের নাগালের বাইরে। নিখুঁত একজোড়া মিয়াজাকি আম নিলামে কয়েক লক্ষ টাকাতে বিক্রি হয়। 

আরও পড়ুনঃ কলকাতার কাছেই পাহাড়-জঙ্গল, বর্ষায় ঘুরে আসুন বাংলার এই দুই অফবিট স্থান থেকে

অত্যন্ত দামি হওয়ার কারণে আমগুলির রক্ষণাবেক্ষণ এবং নজরদারি কঠোর করেছেন সন্দীপ চৌধুরী। তার বাগানে লাগানো রয়েছে একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা, যা দিয়ে তিনি ২৪ ঘন্টা ফসলের ওপর নজর রাখতে পারেন। সন্দীপ চৌধুরী জানান, উত্তরপ্রদেশে তিনি ছাড়া আর কোন চাষী নেই, যার কাছে এতগুলি মিয়াজাকি আমের গাছ রয়েছে। গত বছরের মত এবছরও সুরাট থেকে তার কাছে আম কেনার জন্য আবেদন করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এছাড়াও দুবাই থেকে প্রস্তাব এসেছে। বাকি আমগুলি আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করা হবে বলে জানিয়েছেন ওই আম চাষী। 

Leave a Comment