আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: প্যান কার্ড (Pan Card) থাকলে কি সত্যিই মিলবে ৫ লাখ টাকা? সম্প্রতি ‘প্যান কার্ড লোন’ নিয়ে এমন দাবি ছড়িয়েছে। এখানে বলা হচ্ছে শুধুমাত্র প্যান কার্ড ব্যবহার করেই নাকি সরকার থেকে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু বিষয়টি কি সত্যিই এমন? সরকারি তথ্য এবং বিভিন্ন ঋণদাতা সংস্থার নিয়ম খতিয়ে দেখলে বোঝা যাবে আসল ছবিটা বেশ কিছুটা আলাদা।
প্যান কার্ড দিয়ে পাওয়া সম্ভব ৫ লাখ?
প্রতিটি নাগরিকের কাছেই প্যান কার্ড একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি। প্যান নম্বর ব্যক্তির পরিচয় এবং আর্থিক তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়। বিভিন্ন ব্যাঙ্ক এবং এনবিএফসি-তে পার্সোনাল লোনের আবেদন করার সময় প্যান কার্ড কেওয়াইসি-র অংশ হতে পারে। তবে শুধু প্যান কার্ড থাকলেই ঋণ অনুমোদন হবে বা সরকার ৫ লাখ টাকা দেবে এমনটা কিন্তু নয়।
তাহলে ৫ লাখ টাকার কথাটি এল কোথা থেকে? বাস্তবে একাধিক ব্যাঙ্ক ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত পার্সোনাল লোন দেওয়ার সুবিধা দিয়ে থাকে। যেমন, অ্যাক্সিস ব্যাঙ্কের নির্দিষ্ট পার্সোনাল লোন ব্যবস্থায় প্যান, আধার, আয় সংক্রান্ত তথ্য, ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট-সহ অন্যান্য তথ্য যাচাইয়ের পর ৫ লাখ টাকার ঋণের আবেদন করা যায়। তবে সেখানে বয়স, আয়, চাকরির ধরন এবং ক্রেডিট প্রোফাইলের মতো একাধিক শর্ত রয়েছে। অর্থাৎ প্যান কার্ড থাকাটা আবেদন প্রক্রিয়ার একটি অংশ, ৫ লাখ টাকা পাওয়ার একমাত্র শর্ত নয়।
পার্সোনাল লোনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির মধ্যে রয়েছে আবেদনকারীর সিবিল স্কোর, আয়, চাকরি বা এমপ্লয়মেন্ট স্ট্যাটাস, আগের ঋণ এবং ইএমআই পরিশোধের ইতিহাস। ট্রান্সইউনিয়ন সিবিলের তথ্য অনুযায়ী, লোনদাতারা ঋণের আবেদন মূল্যায়নের সময় ক্রেডিট হিস্ট্রি এবং রিপেমেন্ট প্যাটার্নের মতো বিষয় পরীক্ষা করেন। একই সঙ্গে ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট, ইনকাম প্রুফ এবং কেওয়াইসি ডকুমেন্টও চাওয়া হতে পারে।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনা বা পিএমএমওয়াই-তে ছোট ব্যবসা এবং আয় বৃদ্ধিতে সাহায্য করতে ঋণের ব্যবস্থা রয়েছে। এর কিশোর ক্যাটাগরিতে ৫০ হাজার টাকার বেশি থেকে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়া যায়। এই ঋণ ম্যানুফ্যাকচারিং, ট্রেডিং, সার্ভিসেস এবং কিছু কৃষি-সহায়ক কাজের মতো ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার করা যায়। তবে এটি কিন্তু সাধারণ প্যান কার্ড-ভিত্তিক পার্সোনাল লোন নয়।
পিএমএমওয়াই-এর ক্ষেত্রেও শুধু প্যান কার্ড থাকলেই টাকা পাওয়া যায় না। আবেদনকারীর ব্যবসার প্রয়োজন, যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট এবং ক্রেডিটওয়ার্থিনেস যাচাই করে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক, এনবিএফসি বা অন্য লেন্ডিং ইনস্টিটিউশন ঋণ অনুমোদন করে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্যেও মুদ্রা লোনের ক্ষেত্রে বিজনেস প্ল্যান, ফিনান্সিয়াল ডিটেলস এবং লেন্ডারের যাচাইয়ের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।
আরও পড়ুন: এরা আর পাবে না রেশন, বার্ধক্য ভাতা! বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
তাই জরুরি টাকার প্রয়োজন হলে প্রথমেই ‘প্যান কার্ড দেখালেই ৫ লাখ টাকা’ ধরনের দাবিতে বিশ্বাস করবেন না। এসব ক্ষেত্রে সব সময় সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল নিয়ম দেখে আবেদন করা উচিত। পার্সোনাল লোন নেওয়ার আগে সুদের হার, প্রসেসিং ফি, রিপেমেন্ট টেনিওর এবং ইএমআই কত হবে, তা ভালোভাবে বুঝে নেওয়া জরুরি। কারণ লোন মানে ধার করা টাকা, যা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সুদ-সহ ফেরত দিতে হয়। নিজের রিপেমেন্ট ক্যাপাসিটির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ঋণ নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।