প্রেমে প্রতারিত হয়ে IAS হওয়ার প্রতিজ্ঞা, ৩য় প্রচেষ্টায় UPSC ক্র্যাক করে জিদ পূরণ আদিত্যর

অনন্যা সরকার, পাটনা: এ যেন এক সিনেমার গল্প! প্রেমে প্রতারিত হয়ে গল্পের হিরো জীবনে বড় কিছু করে দেখানোর সংকল্প নেয় – এই গল্প তো আকছার দেখা যায়। তবে বাস্তবে এমন ঘটনা খুবই বিরল। কিন্তু বিহারের আদিত্য পান্ডের (IAS Aditya Pandey) গল্পটা চলচ্চিত্রের মতোই রোমাঞ্চকর। প্রেমে প্রতারিত হওয়ার পর আদিত্য প্রেমিকাকে বলেছিলেন তিনি একদিন আইএএস (IAS) অফিসার হয়ে দেখাবেন। অনেক বাধা-বিঘ্ন পেরিয়ে তিনি তার এই প্রতিজ্ঞাকে সত্যি প্রমাণিত করে দেখিয়েছেন। ইউপিএসসি (UPSC) পরীক্ষায় সর্বভারতীয় স্তরে ৪৮ তম র‍্যাঙ্ক (AIR 48) করে আজ আদিত্য পান্ডে একজন সফল আইএএস অফিসার। আসুন তার এই সাফল্যের কাহিনীটি (UPSC Success Story) জেনে নেওয়া যাক। 

প্রেমে ধোঁকা খেয়ে শুরু ইউপিএসসি-র সফর

আদিত্য পান্ডে পাটনার বাসিন্দা। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে কনিষ্ঠতম হওয়ায় ছোটবেলা থেকেই অনেক আদরের মধ্যে বড় হয়েছেন তিনি। ছেলেবেলায় পড়াশোনার চেয়ে তার দুষ্টুমির জন্য বেশি পরিচিত ছিলেন আদিত্য। এমনকি এক শিক্ষক ঠাট্টা করে তার বাবাকে বলেছিলেন, আদিত্য যদি পড়াশোনায় কখনও সফল হয়, তাহলে তিনি তার গোঁফ কামিয়ে ফেলবেন। আদিত্য পান্ডে পাটনাতেই তার প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করে দিদির সাথে থাকার জন্য গুজরাটের জামনগরে চলে যান।

আদিত্য নিজেই জানান, জামনগরে পড়ার সময় আদিত্য অষ্টম ও নবম শ্রেণিতে খুব ভালো ফল করেছিলেন, এমনকি ক্লাসে প্রথমও হন। কিন্তু দশম শ্রেণিতে জীবনে প্রথম প্রেম আসে, যা তার পড়াশোনায় প্রভাব ফেলেছিল। লেখাপড়া থেকে তার মনোযোগ সরে যায় ফলে উচ্চ বিদ্যালয়ের গিয়ে তার ফলাফল আশানুরূপ হয় না। এরপর তার বাবা তাকে আবার পাটনায় ফিরিয়ে আনেন, যাতে পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারেন।

দ্বাদশ শ্রেণির পর আদিত্য ইংরেজি নিয়ে স্নাতক পড়তে চেয়েছিলেন, কিন্তু বাবার জোরাজুরিতে  ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হতে হয় তাকে। শুরুর দিকে সবকিছু ভালোই ছিল, কিন্তু এরপরই প্রেমিকার সাথে তার সম্পর্ক ভেঙে যায়। আদিত্যের জীবনে এটি একটি অত্যন্ত কঠিন সময় ছিল। প্রেমে প্রতারিত হওয়ার পর, সে প্রেমিকাকে বলেছিল যে সে একজন আইএএস অফিসার হয়ে দেখাবে। সে নিজের কাছে প্রতিজ্ঞা করে এবং  ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করে।

ইউপিএসসি-র প্রথম দুটি প্রচেষ্টায় আদিত্য ব্যর্থ হয়েছিলেন। ২০২১ এবং ২০২২ সালে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারায় তিনি গভীর মানসিক চাপের মধ্যে পড়েন। চাকরি ছেড়ে দিয়ে তার সমস্ত মনোযোগ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ঢেলে দেওয়া সত্ত্বেও সাফল্য অধরাই ছিল। তবে আদিত্য হাল ছাড়েনি এবং তিনি সাফল্য অর্জন না করা পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন।

আরও পড়ুনঃ লোকাল ট্রেনে ভগৎ সিং-নেতাজি, পূর্ব রেলের উদ্যোগে সেজে উঠেছে কামরা

আদিত্য মূলত একাই পড়াশোনা করতেন এবং টাইম ম্যানেজমেন্টের ওপর বেশি মনোযোগ দিয়েছিলেন। ইন্টারনেট থেকে পরীক্ষার মেটোরিয়াল সংগ্রহ করে বাড়িতেই অনুশীলন করতেন। মেইনস পরীক্ষার জন্য প্রতিদিন উত্তর লেখা প্র্যাকটিস করতেন। তার এই প্রচেষ্টা অবশেষে সাফল্যের মুখ দেখলো ২০২৩ সালে। ইউপিএসসি ২০২৩-এ সর্বভারতীয় স্তরে ৪৮ তম র‍্যাঙ্ক অর্জন করে তিনি আজ একজন আইএএস অফিসার। তার এই সাফল্য এটাই প্রমাণ করে যে, প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হলে মানুষ সাফল্যের শিখরে পৌঁছাতে পারে। 

Leave a Comment