আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: SIR নিয়ে তুমুল বিক্ষোভ এবং নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিতর্কের মাঝেই Form-6 নিয়ে নতুন করে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে কমিশন। SIR-এর খসড়া ভোটার তালিকায় নাম না থাকা পুরনো ভোটারদেরও Form-6 জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। ইলেকশন কমিশনের (Election Commission) এই অবস্থান পরিবর্তনকে হাতিয়ার করেই জ্ঞানেশ কুমারকে (Gyanesh Kumar) কটাক্ষ ককরোচ জনতা পার্টির (Cockroach Janata Party) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে (Abhijeet Dipke)।
নতুন ভোটারদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা
নির্বাচন কমিশনের ECINet পোর্টালে নতুন ভোটারদের নাম নথিভুক্ত করার জন্য যে অনলাইন Form-6 ব্যবহার করা হয়, তাতে আগে SIR সংক্রান্ত একটি ঘোষণাও যুক্ত ছিল। আবেদনকারীদের ওই ঘোষণায় তিনটি বিকল্পের মধ্যে একটি বেছে নিতে হত। এবার সেই ঘোষণা Form-6 থেকে সরিয়ে আলাদা করা হয়েছে। ফলে SIR প্রক্রিয়া চলছে এমন রাজ্যগুলিতেও নতুন ভোটারদের নাম নথিভুক্ত করার জন্য Form-6 এবং SIR-এর ঘোষণা আলাদা করে জমা দিতে হবে। আগে একই ফর্মের মধ্যে দু’টি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যেত।
কেন এই পরিবর্তন?
Form-6-এ SIR সংক্রান্ত ঘোষণা যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দুই সদস্য সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী আপত্তি তুলেছিলেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে আইনি সংশোধন না করে এভাবে ফর্মে নতুন বিষয় যুক্ত করা যায় না। বিবেক যোশী এই পরিবর্তন নিয়ে আপত্তি জানান। তাঁর মতে, ফর্মে এমন বদল আনতে হলে আইনি সংশোধন প্রয়োজন। সুখবীর সিং সান্ধু এই সিদ্ধান্তকে অননুমোদিত ও বেআইনি বলে উল্লেখ করেন। দ্রুত ওই ঘোষণা সরানোর কথাও বলেন।
অন্যদিকে, ২৬ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া হলফনামায় নির্বাচন কমিশন জানায়, ২১ অক্টোবরই Form-6 এবং SIR-এর ঘোষণা আলাদা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কমিশনের ব্যাখ্যা, শুরুতে আবেদনকারীদের সুবিধার কথা ভেবেই দু’টি প্রক্রিয়া একই ফর্মে রাখা হয়েছিল। কিন্তু অনলাইন পোর্টালে ঘোষণাটি যেভাবে দেখানো হচ্ছিল, তাতে মনে হতে পারে Form-6-এর নির্ধারিত কাঠামোই বদলে দেওয়া হয়েছে। তাই দু’টি প্রক্রিয়া আলাদা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
Form-6 নিয়ে কমিশনের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা সামনে এসেছে। SIR-এর খসড়া ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় আগে থেকেই ভোটার হিসেবে নথিভুক্ত অনেকেই নতুন করে Form-6 জমা দিতে ভয় পাচ্ছিলেন। তাঁদের আশঙ্কা ছিল, আগে ভোটার থাকা সত্ত্বেও নতুন করে আবেদন করলে মিথ্যাচার করার অভিযোগ উঠতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে:
- আগে ভোটার তালিকায় নাম থাকলেও SIR-এর খসড়া তালিকায় নাম না থাকলে Form-6 জমা দেওয়া যাবে।
- শুধু এই কারণে আবেদনকারীকে মিথ্যা ঘোষণার দায়ে অভিযুক্ত করা যাবে না।
- শুধুমাত্র এই আবেদন জমা দেওয়ার জন্য জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫০-এর ৩১ নম্বর ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা যাবে না।
- তবে অন্য কোথাও ভোটার হিসেবে নথিভুক্ত থাকা বা ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা ঘোষণা করার ক্ষেত্রে এই ছাড় প্রযোজ্য হবে না।
কমিশনের সিদ্ধান্ত বদলের পরই জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করেন অভিজিৎ দীপকে। তাঁর বক্তব্য, শেষ পর্যন্ত কমিশনকে সিদ্ধান্ত বদলাতেই হলো। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, সংবাদমাধ্যমে এই বিষয়টি প্রকাশ না পেলে এবং সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ না করলে কমিশন কি আদৌ সিদ্ধান্তগুলি বদলাত? তারমানে এমন কত সিদ্ধান্তই মানুষের নজরের আড়ালে থেকে যায়, সাধারণ জনগণ সেসব জানতেই পারেন না।
আরও পড়ুন: অসুস্থতায় ভুগছেন প্রাক্তন মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস, অবস্থা আশঙ্কাজনক জানালেন কুণাল ঘোষ
অন্যদিকে, CJP-র সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাসও জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ভুল স্বীকার করে সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলেও দায় এড়ানো যায় না। জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে হওয়া আগামী নির্বাচনগুলি নিয়েও মানুষের মনে সন্দেহ তৈরি হবে বলে দাবি তাঁর।