বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: গত আর্জেন্টিনা (Argentina) ম্যাচের রেফারিং নিয়ে একেবারেই সন্তুষ্ট নয় মিশর। তাঁদের দাবি, একেবারে অন্যায্যভাবে লিওনেল মেসিদের সুবিধা পাইয়ে দিয়েছে ফিফা। এ নিয়ে ইতিমধ্যেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মিশরের ভক্তরা। এবার সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরাসরি বাংলাদেশের (Bangladesh) নোয়াখালি সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেন ওপার বাংলার এক যুবক। রিপোর্ট অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা বনাম মিশর ম্যাচে পক্ষপাতদুষ্ট রেফারিং এর অভিযোগ তুলে ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এবং ফ্রান্সের রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছেন ওই বাংলাদেশি।
এমন ঘটনা বাংলাদেশেই সম্ভব!
রিপোর্ট অনুযায়ী, অভিযোগকারী যুবকের নাম মহম্মদ রাকিব। তিনি বাংলাদেশের নোয়াখালি সদর উপজেলার মন্দরতলী গ্রামের বাসিন্দা। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, ওই যুবক আর্জেন্টিনা বিরোধী না হলেও লিওনেল মেসিদের একেবারেই সমর্থন করেন না। তাই মিশরের ম্যাচ রেফারির পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনে নোয়াখালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।
নিজের অভিযোগপত্রে ওই বাংলাদেশি দাবি করেছেন, ফিফার ওই ম্যাচে আর্জেন্টিনার পক্ষে ইচ্ছাকৃতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার সাথে আরও প্রায় 20 জন অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি জড়িয়ে রয়েছে বলেও দাবি জানান বাংলাদেশের রকিব। তাঁর এও অভিযোগ, ম্যাচের একেবারে শুরুতেই মিশরে এগিয়ে গেলেও আর্জেন্টিনাকে একেবারে অন্যায়ভাবে পেনাল্টি দেওয়া হয়েছে। একই সাথে মিশরের একটি গোল অযৌক্তিকভাবে বাতিল করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই যুবক গোটা ম্যাচে মিশরের ফুটবলারদের হলুদ কার্ড দেখানো থেকে শুরু করে সে দেশের প্রধান কোচকে কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেওয়ার মতো ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। পাশাপাশি তাঁর দাবি, এই ধরনের পক্ষপাতদুষ্ট ঘটনা সেদিনের ম্যাচে সরাসরি প্রভাব ফেলেছিল। এই ধরনের ঘটনা কোটি কোটি সমর্থকের আবেগে আঘাত করেছে। মূলত সেই দাবিতেই বাংলাদেশি মুদ্রায় ক্ষতিপূরণ বাবদ 5 কোটি টাকা দাবি করেন রকিব।
অবশ্যই পড়ুন: অন্নপূর্ণা যোজনায় নতুন আপডেট, তিনের বেশি ঘর-জমি থাকলেও মিলবে ৩০০০ টাকা!
বাংলাদেশের ওই যুবক চাইছেন, আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। যদিও লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করতে গেলেও তাঁর অভিযোগ জমা নেয়নি নোয়াখালি থানা। এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ওই বাংলাদেশি যুবক জানিয়েছেন, তাঁর অভিযোগ জমা নেয়নি পুলিশ। এবার তিনি আদালতের শরণাপন্ন হতে চলেছেন। প্রয়োজন হলে মানববন্ধন সহ অন্যান্য সমস্ত কর্মসূচি পালন করবেন তিনি। এদিকে নোয়াখালি থানার ভারপ্রাপ্ত এক পুলিশ কর্তা জানিয়েছেন, রকিব যে ধরনের মামলা দায়ের করতে এসেছিলেন তা গ্রহণ করার আইনি সুযোগ নেই। তাই তাঁকে ফিরে যেতে হয়েছে।