শীঘ্রই ঘটতে পারে বড় কিছু! POK হাতছাড়া হতে চলেছে পাকিস্তানের?

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: নিজেদের অধিকার রক্ষার্থে বিগত দিনগুলিতে বারবার বিক্ষোভে পা বাড়িয়েছেন পাক অধিকৃত কাশ্মীরের (Pakistan Occupied Kashmir) বাসিন্দারা। সেই বিক্ষোভ ঠেকাতে নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে পাকিস্তান সেনা। তাতে মৃত্যু হয়েছে অন্তত 50 জন সাধারণ মানুষের। এমতাবস্থায়, পাক অধিকৃত কাশ্মীরের জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি বৃহস্পতিবার ঘোষণা করেছে, আগামী 15 জুলাইয়ের মধ্যে তাদের দাবি পূরণ ন হলে মুজাফফারাবাদের দিকে ফের লংমার্চ শুরু করবে তাঁরা। এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নও হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, পাকিস্তানের নিশংসতা বন্দ না হলে দেশটির সাথে সমস্ত বাণিজ্য বন্ধ করে দেবে তারা। এহেন আবহে, মাথায় হাত শেহবাজ সরকারের!

POK এর নিয়ন্ত্রণ হারাবে পাকিস্তান?

সদ্য ঈদগাহের কথা স্মরণ করিয়ে জেএএসি-র প্রধান উমর নাজির কাশ্মীরি জানিয়েছেন, আগামী 14 জুলাইয়ের মধ্যে তাঁদের দাবি পত্র বাস্তবায়ন না হলে 15 জুলাই এই জোটের উদ্যোগে মুজাফফারাবাদের অভিমুখে ফের লং মার্চ শুরু হবে। ডনের রিপোর্ট অনুযায়ী, নাজির একেবারে স্পষ্ট করে বলেছেন গত 10 জুন রাওয়ালকোটে থেমে যাওয়া পদযাত্রা পুনরায় শুরু করতে চলেছেন তাঁরা।

জেএএসির প্রধানের কথায়, “14 জুলাইয়ের মধ্যে আমাদের সমস্ত দাবি পূরণের আবেদন জানাচ্ছি। যদি সেটা না হয়, তাহলে পরের দিন অর্থাৎ 15 জুলাই নতুন ঘোষণা করব। সেদিন কোনও দাবি পত্র থাকবে না, কোনও চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিও থাকবে না। ইনশাআল্লাহ আমরা একটি নতুন ঘোষণা করেই এই স্থান ত্যাগ করব।”

শুধু তাই নয়, এদিন কাশ্মীরি পাক অধিকৃত কাশ্মীরের সমস্ত বাসিন্দাদের 15 জুলাইয়ের জন্য প্রস্তুতি শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সাথে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মানবাধিকার সংস্থাগুলিকে 15 জুলাইয়ের মিছিল পর্যবেক্ষণ করার অনুরোধ করেছেন। এর উদ্দেশ্য, ওই মিছিলে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী যাতে কোনও হিংসাত্মক ঘটনা ঘটাতে না পারে।

বিশেষজ্ঞ মহলের অনেকেই মনে করছেন, 15 জুলাইয়ের POK এর বাসিন্দাদের দাবিদাওয়া পাকিস্তান সরকার পূরণ না করলে খুব সম্ভবত পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বাসিন্দারা ভারতের সাথে জুড়তে চেয়ে সীমান্তে এসে দাঁড়াতে পারেন! এর আগেও POK এর বেশ কিছু রাজনৈতিক দলের তরফে জানানো হয়েছিল, পাকিস্তান সরকার যদি তাদের দাবি না মানে সে ক্ষেত্রে ভারতের সাথে বাণিজ্য করতেও পিছুপা হবে না তারা। সবমিলিয়ে, পাক অধিকৃত কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ এবার হারাতে পারে পাকিস্তান সরকার!

অবশ্যই পড়ুন: বারুইপুর অশান্তি, প্ররোচনার অভিযোগ! FIR খারিজ চেয়ে হাই কোর্টে লাহেক আলি

উল্লেখ্য, 2024 সাল থেকে জেএএসি বিদ্যুৎ ভর্তুকি, আটার ভর্তুকি থেকে শুরু করে স্থানীয় অধিকার সুরক্ষার মতো বিষয়গুলিকে সামনে রেখে আন্দোলন করে আসছে। জেএএসি এর অভিযোগ, গত বছর অর্থাৎ 2025 সালে পাকিস্তান সরকারের সাথে তাঁদের একটি চুক্তি হয়েছিল। তবে সেই চুক্তি মেনে দাবি পূরণ করেন। এও অভিযোগ, পাকিস্তান সরকার বিভিন্ন অত্যাবশ্যকীয় পণ্য, খাদ্য সামগ্রী এবং ওষুধের সরবরাহ বন্ধ করে দিয়ে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বাসিন্দাদের উপর চাপ সৃষ্টি করার পাশাপাশি ওই অঞ্চলটিতে অর্থনৈতিক সমস্যা তৈরি করতে চেয়েছিল।

Leave a Comment