সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: রাজ্যজুড়ে চলছে পথ নিরাপত্তা সপ্তাহ। বাইক আরোহীদের হেলমেট পরার পাশাপাশি গাড়ির ড্রাইভারদের সিট বেল্ট পরা বাধ্যতামূলক বলেই জানিয়েছে রাজ্য সরকার। তবে এবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী (Sharadwat Mukherjee) ধর্মীয় টুপির উপরেও হেলমেট পরার নির্দেশ দিলেন। বিশেষ করে দুর্ঘটনার হাত থেকে বাঁচতে এবং নিজের পরিবারকে বাঁচাতে আক্ষেপের সুর শোনা গেল স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের গলায়। এমনকি গাড়ি চালকদের সিট বেল্ট পরারও নিদান দিয়েছেন তিনি।
ফেজ টুপির উপর হেলমেট বাধ্যতামূলক
সাম্প্রতিক এক রিপোর্ট বলছে, দুর্ঘটনার নিরিখে পশ্চিমবঙ্গ ভারতের মধ্যে শীর্ষস্থানে রয়েছে। প্রতিদিন গড়ে পথ দুর্ঘটনায় এই রাজ্যে মৃত্যু হচ্ছে ১৮ জনের। তার মধ্যে সবথেকে বড় কারণ হেলমেট ছাড়া বাইক চালানো। শনিবার এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে স্বাস্থ্যমন্ত্রী কলকাতা রাজাবাজার, মেটিয়াবুরুজ ইত্যাদি জায়গার প্রসঙ্গ টেনে এনে বলেন, “এসব জায়গায় এমন অনেকেই রয়েছেন যারা হেলমেট পরতে চান না। যারা ধর্মীয় টুপি পরছেন, তারা সেই টুপির উপরেই হেলমেটটা পরুন। এতে আপনার এবং আপনার পরিবারের প্রাণ বাঁচবে।”
আসলে কলকাতার স্তায় চললে লক্ষ্য করা যায়, রাজাবাজার, খিদিরপুর, পার্ক সার্কাস, মেটিয়াবুরুজ ইত্যাদি জায়গায় ধর্মীয় টুপি পরেই অনেকে বাইক চালান। হেলমেটের পরোয়া করেন না। তাদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রীর বক্তব্য, “যারা মাথায় ধর্মীয় টুপি পরছেন, তাদের উদ্দেশ্যে বলছি, ওটা কিন্তু প্রাণ বাঁচাবে না। ধর্মীয় টুপি পরুন। কিন্তু তার উপর হেলমেট পরুন। রাজাবাজার, খিদিরপুর, মেটিয়াবুরুজ, পার্ক সার্কাসে যারা থাকেন তারা গর্বের সঙ্গেই ধর্ম পালন করুন। তবে মোটরসাইকেল চালানোর সময় ফেজ টুপির উপর হেলমেট পরা বাধ্যতামূলক।”
আরও পড়ুন: আরজি করের ডাক্তারি পড়ুয়া ধর্ষণ-খুনের ২ বছর, রাজ্যজুড়ে ‘অভয়া দিবস’ পালনের নির্দেশ
এমনকি স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, খিদিরপুর সহ বিভিন্ন জায়গায় একটা স্কুটারেই পাঁচজন করে উঠছে। এগুলি কন্ট্রোল করতে হবে। একটি বাইক বা স্কুটারে দু’জনের বেশি ওঠা যাবে না। তিনি জানান, “অনেক সময় দেখি দুই চাকার মোটরসাইকেলে মা-বাবার ফাঁকে একটি বাচ্চা ওঠে। কিন্তু সেক্ষেত্রে অভিভাবকরা হেলমেট পরে, বাচ্চাকে পরায় না। এটা অনৈতিক। যতই ধরে থাকুন না কেন, সামান্য একটা ধাক্কায় বাচ্চা হাত ফসকে পড়ে যেতে পারে। দরকার পড়লে তিনজন বাইকে না উঠে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করুন। পাশাপাশি চার চাকার গাড়ি যারা চালান, তারা সিট বেল্ট বাঁধুন। শুধু সামনের আসনের যাত্রী নয়। পিছনে যারা বসছেন, তাদেরকেও সিট বেল্ট বাঁধতে বলুন।”