ফের ধসে বিপর্যস্ত NH-10, আটকে শতাধিক পর্যটক

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ফের ভূমি ধসে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ (North Bengal)! ভারী বৃষ্টির (Heavy Rain) জেরে রাতারাতি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ল উত্তরবঙ্গ ও সিকিমের প্রধান সংযোগকারী ‘লাইফ লাইন’ ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক। যার দরুন ফের শিলিগুড়ি থেকে কালিম্পং এবং সিকিমের যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ল। আতঙ্কিত পর্যটক থেকে শুরু করে স্থানীয়রা।

ধসে বিপর্যস্ত ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক

বিগত কয়েকদিন শান্ত পরিবেশ থাকলেও পুনরায় নিম্নচাপ তৈরি হওয়ায় উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এদিকে আজ, বৃহস্পতিবার একটানা ভোর রাত থেকে বৃষ্টি হওয়ায় পাহাড়ের উপর থেকে হুড়মুড়িয়ে মাটি, কাদায় মাখামাখি বিশাল বিশাল বোল্ডার ও পাথর গড়িয়ে রাস্তায় পড়ে অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে সেভক কালী মন্দিরের কাছে পাহাড় থেকে বিশাল ধস নেমে আসে ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর। মুহূর্তের মধ্যে যাতায়াত ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায়। মাঝপথে তীব্র যানজটে নাকাল দশা হয়েছে পথচারীদের। পাশাপাশি আটকে পড়েছে প্রচুর পর্যটকের গাড়ি।

যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে কাজ

উল্লেখ্য, শিলিগুড়ি এবং সিকিমের যোগাযোগের অন্যতম ‘লাইফ লাইন’ ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক। প্রত্যেকদিন এই রাস্তা দিয়েই কয়েকহাজার পর্যটক বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে পৌঁছান। এমনকী স্থানীয়দের কাছেও এই রাস্তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ধসের কারণে মাঝেমধ্যেই রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে পর্যটকদের। যদিও এইমুহুর্তে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় রাস্তা পরিষ্কারের কাজ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়েছেন প্রশাসনের আধিকারিকরা। আপাতত ছোট গাড়িগুলো দার্জিলিং জেলা পুলিশ গজলডোবা-করোনেশন সেতু-মংপং রুট এবং ভারী গাড়িগুলো গরুবাথান-মুনসং রুটে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন: কলকাতা সহ একাধিক জেলায় মুষলধারে বৃষ্টি শুরু, কেমন থাকবে বিকেলের আবহাওয়া?

প্রসঙ্গত, পাহাড়ের বিপর্যয় কেবল সেভক কালী মন্দিরের কাছেই সীমাবদ্ধ নেই। গতকাল রাতে সিকিমের মেল্লি-জোরথাং রোডও ভূমিধসের কারণে অবরুদ্ধ হয়েছে। তাই সিকিম প্রশাসনের তরফে গাড়ি চালকদের সতর্ক করা হয়েছে। অন্যদিকে, কামদং থেকে সিংথাম যাওয়ার একমাত্র রাস্তাটি প্রবল বৃষ্টিতে ধুয়ে ধেয়ে আসা জলকাদায় সম্পূর্ণ তলিয়ে গিয়েছে, যা এই মুহূর্তে যান চলাচলের একেবারে অযোগ্য। সবমিলিয়ে খুবই খারাপ পরিস্থিতি পাহাড়ে।

Leave a Comment