বদলে গেল কলকাতা-হাওড়ার ওয়ার্ড সংখ্যা, পুরভোটের আগে বিধানসভায় মাস্টারস্ট্রোক শুভেন্দুর

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: পুরভোটের আগেই বিরাট চমক প্রশাসনের। আজ, বুধবার, বিধানসভায় (West Bengal Assembly) বিশেষ অধিবেশন ডেকে কলকাতা (Kolkata) ও হাওড়ার (Howrah) ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন বিল পেশ করল রাজ্য সরকার। জানা গিয়েছে এদিন পুরনো সংশোধনী বিল প্রত্যাহারের প্রস্তাব পেশ করার পাশাপাশি নয়া সংশোধনী বিলে কলকাতার ক্ষেত্রে ১৪৪ জন নির্বাচিত পুর-প্রতিনিধির বদলে ২০৯ এবং হাওড়ার ক্ষেত্রে ৫০ পুর-প্রতিনিধির পরিবর্তে ৬৮ জনের কথা বলা হয়েছে। শুধু তাই নয়, হাওড়ার অনুন্নয়নের প্রসঙ্গে গত সরকারকে রীতিমত তুলোধোনা করলেন অগ্নিমিত্রা পাল এবং মুখ্যমন্ত্রী।

বিধানসভায় বিশেষ অধিবেশনে পেশ সংশোধনী বিল

প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, আজ, বুধবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে ‘দ্য কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ এবং ‘দ্য হাওড়া মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (সেকেন্ড অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’- এই দুই বিল পেশ করা হয়। সেখানেই এই জোড়া বিল ধ্বনি ভোটে পাশ হয় এবং দুই পুর-আইনেরই ৫ নম্বর ধারায় দু’টি অনুচ্ছেদে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর ফলে যেখানে কলকাতা পৌরনিগমের ওয়ার্ড সংখ্যা বর্তমানে ১৪৪ ছিল তা বেড়ে হতে চলেছে ২০৯টি এবং হাওড়ায় বাড়ছে ১৮টি ওয়ার্ড। অর্থাৎ যেখানে আগে ওয়ার্ড সংখ্যা ৫০ ছিল এখন তা বেড়ে হয়েছে ৬৮টি।

কী বলছেন অগ্নিমিত্রা পাল?

বিল প্রসঙ্গে এ দিন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “তৃণমূল জমানায় হাওড়ায় দুর্নীতি হয়েছে। পুকুর বুজিয়ে বেআইনি নির্মাণ হয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা হয়নি এমনকি পানীয় জলটুকুও সব বাড়িতে পৌঁছয় না। ১৫ বছর ধরে হাওড়ার মানুষ বঞ্চিত। তবে আমরা রাস্তা-নিকাশি-জল নিয়ে বিশেষ প্ল্যান করছি। এবং সাধারণ মানুষকে যথাযথ নাগরিক পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই হাওড়া ও কলকাতা উভয় কর্পোরেশনের ওয়ার্ড সংখ্যা বৃদ্ধি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।” এছাড়াও পুরভোট নিয়ে তিনি জানিয়েছেন, “মানুষের ভোটে হারবেন বলে, এতদিন ভোটই করতে দেয়নি তৃণমূল। আর্থিক বরাদ্দ ২০০ কোটি টাকা হাওড়া বঞ্চিত।”

আরও পড়ুন: রেশন কার্ডে নাম ভুল? চেঞ্জ করতে হবে ঠিকানাও? ফোন দিয়ে এভাবে করে নিন ৫ মিনিটে

মধ্য হাওড়ার তৃণমূল বিধায়ক অরূপ রায়কেও বিঁধেছেন অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি বলেন, ‘অরূপবাবু, আপনারা করেননি কেন? জনসংখ্যা বাড়ছে। রাস্তা বড় করতে হবে, সময় পেয়েছেন ১৫ বছর, করেননি কেন? প্রাথমিক পরিষেবা থেকে হাওড়ার মানুষ বঞ্চিত হয়েছে।’ পাশাপাশি এদিন পূর্বতন সরকারকে বিঁধেছেন বারাকপুরের বিধায়ক কৌস্তভ বাগচি। তিনি জানান, “তৃণমূল নেতাদের করজোড়ে ক্ষমা চাওয়া উচিত। হাওড়া, বালির মানুষের সঙ্গে অন্যায় হয়েছে এতদিন। বর্তমানে পুনর্বিন্যাসের ফলে ওয়ার্ড পিছু ১৫ থেকে ১৬ হাজার ভোটার থাকবেন। যার ফলে পরিষেবা সঠিকভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে। মানুষের স্বার্থে আমি এই বিলকে স্বাগত জানাচ্ছি।”

Leave a Comment