সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দীর্ঘদিন আগাছায় ঢেকে থাকা রেললাইনকে ঘিরে এবার আশার আলো। দুই রাজ্যের তিন জেলার আদিবাসীদের যাতায়াত ব্যবস্থা আরও উন্নত করার লক্ষ্যে শুরু হচ্ছে সিউড়ির বক্রেশ্বর থেকে ঝাড়খণ্ডের নলা জামতাড়া পর্যন্ত নতুন রেললাইন পাতার কাজ। এমনকি এই রেললাইন সরাসরি হাওড়া-দিল্লি মেন লাইনের সঙ্গে যুক্ত হবে বলে খবর। ২০০২ সালে অন্ডাল-লছমনপুর লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ হওয়ার পর ফের এই লাইন নিয়ে সুখবর শোনাল পূর্ব রেল (Indian Railways)। এই প্রকল্পের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে বরাদ্দ করা হয়েছে ২০০০ কোটি টাকা।
অন্ডাল-লছমনপুর লাইন নিয়ে বিরাট সুখবর
১৯৫৩ সালে অন্ডালের সাথে পলাশথলির রেল যোগাযোগ গড়ে ওঠে। তবে ২০০২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এই লাইনে ইসিএল এবং পূর্ব রেলের পরিদর্শক অদ্ভুত যুক্তি দেখিয়ে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয়। সূত্রের খবর, ওই অঞ্চলে অনিয়ন্ত্রিতভাবে মাটির তলা থেকে কয়লা উত্তোলনের ফলে রেললাইন বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে, এমন দাবি তুলেই বন্ধ করা হয় ট্রেন চলাচল। তবে বর্তমানে ওই লাইনে ২০ কোচের বিশাল কয়লাবাহী ট্রেন চলাচল করছে বলেই খবর।
জানা গিয়েছে, বক্রেশ্বর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে কয়লা পরিবহনের জন্য এই লাইনের মাধ্যমেই চলাচল করে ট্রেন। আসলে রসা এবং হযরতপুর হল্ট স্টেশনের মাঝে রয়েছে কয়লার সাইডিং। আর সেখানে বিভিন্ন জায়গা থেকে কয়লা এসে জমা হয় এবং তারপর ওয়াগনে লোড করে সেই কয়লা বক্রেশ্বর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে পাঠানো হয় অন্ডাল-পলাশথলি লাইনের মাধ্যমে। সেই সূত্রে এলাকার মানুষজনের দাবি, রেললাইন মোটেও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় নেই। অবিলম্বে তা সংস্কার করা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: প্রতীক ফ্রিজ মামলায় সুপ্রিম কোর্টে স্বস্তি পেলেন মমতা
এ বিষয়ে প্রাক্তন সিএলডাব্লউ কর্মী সত্যনারায়ণ মণ্ডল জানিয়েছেন, অন্ডাল থেকে পলাশথলি রেললাইনের শেষ স্টেশন পলাশথলি। তার আগের স্টেশন লছমনপুর। লছমনপুর থেকে পলাশথলি পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার রেললাইন বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ। বাকি লাইন ঠিকঠাক এবং এই লাইন ধরেই নিয়মিত কয়লাবাহী ট্রেন যাতায়াত করছে। তাই যাত্রীদের কথা মাথায় রেখে অন্ডাল থেকে লছমনপুর পর্যন্ত ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু করার দাবি জানানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতে সিউড়ি-নলা জামতাড়া নতুন রেললাইন পাতা হলে অন্ডাল-পলাশথলি রেললাইনের সঙ্গে তা যুক্ত করা হবে, এবং এতে দুই রাজ্যের সীমান্তবর্তী এলাকার হাজার হাজার মানুষ উপকৃত হবে। প্রাথমিকভাবে মোট ২০০০ কোটি টাকা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে এই লাইনে।