বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: সম্প্রতি অসমের জোড়হাটে ভেঙে পড়েছিল ভারতীয় বায়ুসেনার একটি বিমান (Assam Aircraft Crashed)। সেই দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় বিমান বাহিনীর ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট শুভম কুমারের। পাইলটের মৃত্যুর পরই শুভমের স্ত্রীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সূত্রের খবর, সরকারি নথিতে আইনতভাবে মৃত পাইলটের স্ত্রী হিসেবে উল্লেখ ছিল উত্তর প্রদেশের আজমগড়ের বাসিন্দা শ্রেয়া রায়ের নাম। আর তা নিয়েই শুরু হয়েছে বিতর্ক। শুভমের পরিবারের দাবি, তাঁদের ছেলে বিয়ে করেছেন এটা জানতেনই না তাঁরা। মৃতের বাবা-মা জানিয়েছেন, শুভমের মৃত্যুর পর ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকার তাঁদেরই।
সরকারের ক্ষতিপূরণ নিয়ে কাড়াকাড়ি!
সূত্রের খবর, ছেলে শুভম কুমারের মৃত্যুর পর ক্ষতিপূরণ বাবদ 21 লাখ টাকা মৃত পাইলটের আইনত স্ত্রীয়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। সে কথা জানা মাত্রই শুভমের বাবা অমরেন্দ্র শর্মা অভিযোগ করেছেন, সরকারের উচিত ছিল শুভমের পরিবার অর্থাৎ তাঁদের আর্থিক সাহায্য দেওয়া। কিন্তু এর পরিবর্তে সরকার শ্রেয়া রায় নামক এক যুবতীকে ক্ষতিপূরণের অর্থ তুলে দিয়েছে।
হুলাসগঞ্জ থানার বনওয়ারিয়া গ্রামের বাসিন্দা অমরেন্দ্র শর্মা সরকারের সুবিধাভোগী বা ক্ষতিপূরণ প্রাপকের নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দাবি, গোটা বিষয়টি একেবারেই স্বচ্ছতার সাথে হয়নি। সবার আগে শহীদের বাবা-মায়ের কাছে সরকারি সহায়তা পাঠানো উচিত। তাঁরাই এটা পাওয়ার যোগ্য। একই সাথে শুভমের পরিবারের তরফে দাবি করা হয়, তাঁদের ছেলে যে বিয়ে করেছেন সেটা জানতেনই না তাঁরা।
এ প্রসঙ্গে জোহানাবাদ মহলের বিভাগীয় কর্মকর্তা রাজীব রঞ্জন সিনহা জানিয়েছেন, সমস্ত সরকারি নথি খতিয়ে দেখার পর জানা গিয়েছে শ্রেয়া রায় নামক ওই যুবতী ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট শুভম কুমারের বৈধ স্ত্রী। তাই নিয়ম মেনে তাঁকে সরকারি সুবিধা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এমন দাবিকে চ্যালেঞ্জ করে শুভমের পরিবারের বক্তব্য, শ্রেয়া রায় নামক ওই মেয়েটি যদি সত্যিই শুভমের স্ত্রী হয়ে থাকে, তাহলে এই কঠিন সময়ে কেন সে তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়াচ্ছে না। এমন বক্তব্যেই সরকারকে গোটা বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার আবেদন জানিয়েছেন শুভমের বাবা।
অবশ্যই পড়ুন: আফগানিস্তান সিরিজে আচমকাই টিম ইন্ডিয়ায় রদবদল, তারকা প্লেয়ারকে ফেরাল BCCI
প্রসঙ্গত, শুভমের পরিবারের বাকি সদস্যরাও জানিয়েছেন, শুভমের বিয়ে সম্পর্কে কোনও তথ্য তাঁদের কাছে ছিল না। এও বলা হয়, দুর্ঘটনার কয়েক মুহূর্ত আগে পরিবারের তরফে শুভমকে বিয়ে নিয়ে জিজ্ঞেস করা হলে সে নাকি বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। কাজেই শুভম কোনও মহিলার সাথে রেজিস্ট্রি ম্যারেজ করেছিলেন কিনা এ বিষয়ে একেবারে অন্ধকারে ছিল তাঁর পরিবার। তবে শুভমের মৃত্যুর পরই হঠাৎ শ্রেয়া রায় নামক ওই যুবতী আইনত স্ত্রীর হওয়ার দাবি জানাতে তৈরি হল বিতর্ক।